নিউজ পোল ব্যুরো: নিরাপত্তার প্রশ্নে ফের কাঠগড়ায় বোয়িং ৭৮৭ (Boeing 787)। একের পর এক প্রযুক্তিগত ত্রুটি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিমান শিল্পে। সর্বশেষ ঘটনা, অমৃতসর থেকে বার্মিংহ্যামগামী এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) ফ্লাইট এআই-১১৭-এ মাঝআকাশে হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘র্যাম এয়ার টারবাইন’ (RAT) এক বিপজ্জনক সতর্কবার্তা, যা সাধারণত বিমানের সমস্ত ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক/হাইড্রলিক ব্যবস্থা বিকল হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেরিয়ে আসে। যদিও এ যাত্রায় বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে, তবে বিষয়টি নিয়ে প্রবল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের অন্যতম পাইলট সংগঠন ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান পাইলটস (FIP)।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাইলট সংগঠন ডিজিসিএ-র (DGCA) কাছে লিখিতভাবে দাবি জানিয়েছে, দেশের সব বোয়িং ৭৮৭ (Boeing 787) ড্রিমলাইনার বিমানের বৈদ্যুতিক ও হাইড্রলিক সিস্টেমের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন তদন্ত হোক। সংগঠনের বক্তব্য, “এই ঘটনা একেবারেই বিচ্ছিন্ন নয়। বরং কয়েক মাস আগের ভয়াবহ আমেদাবাদ-লন্ডন বিমান দুর্ঘটনার ছায়া যেন আবার ফিরে এল।”
প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন আমেদাবাদ থেকে উড়েই লন্ডনগামী AI-171 বিমান ভেঙে পড়ে, যেখানে ২৭৪ জন যাত্রী প্রাণ হারান। সেই ঘটনায়ও ঠিক একইভাবে উড়ানের পর RAT সক্রিয় হয়েছিল, অর্থাৎ বিমানের সমস্ত সিস্টেম একযোগে অচল হয়ে পড়ে। FIP-এর অভিযোগ, তারা সেই দুর্ঘটনার পর একাধিকবার ডিজিসিএ-কে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করেছিল। অথচ তখন কেবলমাত্র জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ) খতিয়ে দেখা হয়েছিল, গোটা ইলেকট্রিক্যাল সিস্টেম নয়।
এফআইপি’র দাবি, বোয়িং ৭৮৭ মডেলে বারবার যান্ত্রিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ায়। অন্যদিকে, এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “RAT সক্রিয় হলেও বিমানের সমস্ত সিস্টেম সচল ছিল, এবং এটি নিরাপদেই অবতরণ করেছে।” তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনার পর DGCA-র সামনে আর সময় নেই। যত দ্রুত সম্ভব সার্বিক তদন্ত এবং প্রতিটি বিমানে পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিগত স্ক্যান বাধ্যতামূলক করতে হবে, না হলে আবারও ঘটতে পারে বড়সড় বিপর্যয় যার দায় আর শুধু প্রযুক্তির থাকবে না, থাকবে প্রশাসনিক উদাসীনতারও।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
