Editorial: ক্ষমতার দম্ভে নয়,সংগ্রামের সিলমোহর নোবেল শান্তি পুরস্কার

সম্পাদকীয়

গত বছরের শান্তি নোবেল(NobelPrize2025) পেয়েছিলেন ইরানি মানবাধিকার সংগ্রামী নরগেস মহাম্মদি। এবছর সাহিত্য নোবেল প্রাপক মাচাদের এই সম্মান বিশ্বসাহিত্যে নতুন আস্থা জাগিয়েছে। ট্রাম্পের না পাওয়া নোবেলও এই প্রেক্ষাপটে গভীর তাৎপর্য বয়ে আনে—এটি প্রমাণ করে যে নোবেল কেবল অর্জন আর মানবিকতার ভিত্তিতেই সীমাবদ্ধ, রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা ও ক্ষমতার দম্ভের দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়। নোবেল পুরস্কার কেবল এক ব্যক্তির গৌরবের মুকুট নয়, এটি মানবসভ্যতার আশা ও মূল্যবোধের প্রতীক। গত বছর, ইরানের সাহসী মানবাধিকার কর্মী নরগেস মহাম্মদি শান্তি নোবেল(NobelPrize2025) জিতে বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন—দমন-পীড়নের ভেতর থেকেও মুক্তির স্বপ্নকে জাগিয়ে রাখা যায়। তাঁর লড়াই ছিল নিপীড়িতদের জন্য, স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের জন্য। নোবেল কমিটি এই নির্বাচন দিয়ে আবারও প্রমাণ করেছে, সত্যিকার শান্তি আসে নির্ভীক কণ্ঠস্বর থেকে। এবছর শান্তি নোবেল পেলেন করিনা মাচাদের। তাঁর সাহিত্যকর্ম কেবল শিল্পের সৌন্দর্য নয়, মানবিক বোধ, সহিষ্ণুতা ও সংস্কৃতির সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছে।

[আরও পড়ুন]  http://সিস্টেমের প্রতি জুতো ছোঁড়া কাণ্ডে দ্বন্দ্বে বিজেপি

এই অর্জন সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে যেমন আনন্দের, তেমনি বিশ্বব্যাপী ভাষা ও চিন্তার বহুমাত্রিকতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। নোবেল কমিটির এই বেছে নেওয়া মধ্য দিয়ে বার্তা দেয় — শব্দ ও গল্প মানুষের মনকে বদলাতে পারে, ঠিক যেমন কর্মকাণ্ড বদলায় সমাজের গতি। এত আলোয় ভরা এই নোবেল ঘোষণার মাঝে, এক রাজনৈতিক বাস্তবতাও স্পষ্ট—কিছু প্রার্থী, যেমন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এই সম্মান পাননি। এর পেছনে কারণ স্পষ্ট — নোবেল কেবল ক্ষমতার প্রতীক দিতে নয়, বরং মানবতার জন্য নিরলস সেবার স্বীকৃতিতেই দেওয়া হয়। জনপ্রিয়তা বা ক্ষমতার চাপে নয়, বরং মানবিকতায় ভরা অবদানের ভিত্তিতেই নোবেল দাঁড়ায়। নোবেল পুরস্কারের এই নিরপেক্ষতা ও বাছাই আমাদের শেখায়—মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও সংস্কৃতির অগ্রগতিই পৃথিবীকে এগিয়ে নেওয়ার পথ। গত বছরের শান্তির বার্তা থেকে এবছরের শান্তির যাত্রাপথ এক উজ্জ্বল আলো। যে উজ্জ্বলতায় তৈরি হয়েছে আশাবাদী এক সুর, যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিশ্ব পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি মানুষের চিন্তা আর ভালবাসা।
ভেনেজুয়েলার মারিয়া করিনা মাচাদো হারিয়েছেন প্রায় ৩০০র বেশি দাবিদারকে। গতবছরই টাইম ম্যাগাজিনের মতে, তিনি বিশ্বের ১০০ জন ইনফ্লুয়েন্সিয়াল নারী-পুরুষের মধ্যে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। পেয়েছেন শাখারভ শান্তি পুরস্কার। ৫৮ বছরের এই বিবাহিতা নারী তিন কন্যা সন্তানের মাও বটে। কেউ ভয় দেখালে ভয় পান সাধারণ মানুষের মতই। কিন্তু প্রতিবাদের ময়দান থেকে সরে যান না। ২০২৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় তাঁকে ষড়যন্ত্র করে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে জিতিয়ে আনেন তাঁরই মনোনীত অন্য প্রার্থী করিনা ইয়োরিসকে।
সোজা কথা, সাপটা বক্তব্য- এক ঘরোয়া নারী শুধু মানসিক শক্তির জোরে দুর্গারূপ ধারণ করতে পারেন। জিততে পারেন, দেশের ও দশের লড়াই করার সাহস ও সংগ্রামের সিলমোহর, যার নাম নোবেল শান্তি।(NobelPrize2025)