নিউজ পোল ব্যুরো: সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টি (Heavy Rainfall) ও নিম্নচাপের (Low Pressure System) জেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল উত্তরবঙ্গের (North Bengal) বিস্তীর্ণ এলাকা। ভুটান (Bhutan) থেকে নেমে আসা প্রচুর জলের সঙ্গে নদীগুলির (Rivers) জলস্তর হঠাৎই বৃদ্ধি পায়। তার জেরেই আলিপুরদুয়ার জেলার শিসামারা নদীতে (Shisamara River) ভয়াবহ প্লাবন দেখা দেয়। ভেঙে যায় নদীর বাঁধ (River Embankment)। প্লাবিত হয়ে পড়ে জেলার শালকুমার এলাকা। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হচ্ছে। আর এই সময়েই গ্রামজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী কালীপুজোর (Kali Puja) প্রস্তুতি।

প্রতিবছর গ্রামের মানুষ মিলে যে পুজোর আয়োজন করেন, তা এবার পড়ল ১০৩ বছরে। এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি চর্চিত কাহিনি। জানা গিয়েছে, প্রায় একশো বছর আগে গ্রামেরই বাসিন্দা খাউচাঁদ কার্জি প্রথম এই পুজো শুরু করেন। সেসময় গ্রামে মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল কলেরা (Cholera Outbreak)। প্রায় প্রতিটি পরিবার আক্রান্ত হয়েছিল এই রোগে। গোটা গ্রাম যেন ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে। সেই সময় খাউচাঁদ স্বপ্নাদেশ পান যদি জাগ্রত কালীদেবীর পুজো (Goddess Kali Worship) করা হয়, তবে গ্রাম মুক্তি পাবে এই মহামারি থেকে। সেই বিশ্বাস থেকেই শুরু হয়েছিল এই পুজো। শতক পেরিয়ে আজও সেই ঐতিহ্য বহন করে চলেছে গ্রামবাসীরা।
আরও পড়ুন: Ghost Hunters of Kolkata: কখনও আওয়াজ, কখনও ছায়া! প্রেতলোকের রহস্য জানালেন কলকাতার ভূত-সন্ধানীরা
তবে এবারের বন্যা ও প্লাবনের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল এলাকাবাসীর মধ্যে। চাষের জমি (Agricultural Land) ও ফসলের (Crops) ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক ঘরবাড়িও জলের তলায় চলে গিয়েছিল। কিন্তু সব বাধা উপেক্ষা করে গ্রামের মানুষ ঠিক করেন পুজো হবেই। এরপরই শুরু হয় প্যান্ডেল (Pandal) ও প্রতিমা (Idol) তৈরির কাজ। এলাকাজুড়ে জমতে শুরু করে উৎসবের আমেজ। প্রতিবছরের মতো এবারও পুজো উপলক্ষে আয়োজন করা হচ্ছে মেলার (Fair)। ২০ অক্টোবর কালীপুজোর দিন থেকে মেলা শুরু হবে এবং চলবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। থাকছে বিচিত্রানুষ্ঠান (Cultural Programmes), দোকানপাট, খাবারের স্টল ও সার্কাসের (Circus) আয়োজনও। এই সময় পুরো এলাকা ভরে ওঠে মানুষের ভিড়ে। আশপাশের গ্রাম তো বটেই, দূরদূরান্ত থেকেও হাজার হাজার মানুষ এই পুজো দেখতে আসেন।

যদিও এবারের বিপর্যয়ের পর গ্রামের অনেক পরিবারই আর্থিক সংকটে (Economic Loss) ভুগছেন। কৃষকদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাও রয়েছে। তবু সবার বিশ্বাস, দেবীর (Goddess) আশীর্বাদে সমস্ত বাধা পেরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফের ফিরে আসা সম্ভব। তাই এবারের কালীপুজোয় গ্রামের মানুষ একত্রে প্রার্থনা জানাবেন নতুন শুরুর জন্য।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
