Ghost Hunters of Kolkata: কখনও আওয়াজ, কখনও ছায়া! প্রেতলোকের রহস্য জানালেন কলকাতার ভূত-সন্ধানীরা

কলকাতা

নিউজ পোল ব্যুরো: হেমন্তের হালকা শিরশিরে হাওয়া, গাছের পাতার মৃদু হিলিবিলি— এমন সময়েই যেন ইহলোক আর প্রেতলোকের মাঝের পর্দাটা একটু সরে যায়। এই সময়েই কলকাতার কয়েকজন মানুষ পা বাড়ান অজানার খোঁজে। এঁরা নেহাত গল্পলেখক বা গুজবপ্রেমী নন, বরং নিজেদের বলেন ‘প্যারানর্মাল ইনভেস্টিগেটর’ (Paranormal Investigator)। উদ্দেশ্য একটাই— অতিপ্রাকৃত (Ghost Hunters of Kolkata) সত্তার অস্তিত্ব আছে কি না, তার বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান।

আরও পড়ুন:Weather update : ফের বঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস, কালীপুজোর দিন কেমন থাকবে আবহাওয়া?

বাংলায় ভূতচর্চা (Ghost Research) নতুন নয়। ঊনবিংশ শতকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়— সকলেই গল্পে ও আলোচনায় তুলে এনেছেন এই বিষয়। কিন্তু আধুনিক কলকাতায় যে কয়েকজন সত্যিই যন্ত্রপাতি নিয়ে প্রেতলোকের অনুসন্ধান করেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম অভিজিৎ ও দেবরাজ সান্যাল। অভিজিৎ জানান, তাঁরা ব্যবহার করেন বিশেষ যন্ত্র যেমন— ইএমএফ ডিটেক্টর (EMF Detector), শ্যাডো ডিটেক্টর (Shadow Detector), ইলেকট্রনিক ভয়েস ফেনোমেনা রেকর্ডার (EVP Recorder) এবং গোস্ট বক্স (Ghost Box)। এই সব যন্ত্র নাকি চিহ্নিত করতে পারে এমন শব্দ, আলো বা তরঙ্গ যা সাধারণ মানুষের ইন্দ্রিয়ের বাইরে।

অভিজিতের মতে, প্রেতেরা (Spirits) আসলে অতৃপ্ত আত্মা— কোনও অসম্পূর্ণ ইচ্ছা বা ব্যথা তাদের বেঁধে রাখে। তাই প্রেতসন্ধানীরা প্রথমে কথা বলার চেষ্টা করেন, কারণ অনেক সময়েই প্রেতের ইচ্ছা জানা গেলে সমস্যার সমাধান হয়। আর যদি না হয়, তখন তাঁরা করেন ‘ক্লিনজিং’ (Cleansing)— লোবান বা ধূপের ধোঁয়ায় নেতিবাচক শক্তি দূর করার প্রক্রিয়া। গুরুতর ক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়ে ‘শিল্ডিং’ (Shielding)— যা ইসলামিক আয়াত বা অন্য ধর্মীয় মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে করা হয়।

 

দেবরাজ সান্যাল, ‘ডিটেক্টিভস অফ সুপারন্যাচারাল (Detectives of Supernatural)’-এর প্রতিষ্ঠাতা, জানালেন এক কাশীপুর রাজবাড়ির ঘটনার কথা। পুরনো সামগ্রী আনার পর থেকেই অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে থাকে। আলট্রাভায়োলেট আলোয় ছবি তুলতেই নাকি ধোঁয়ামাখা এক ছায়া ধরা পড়ে। দেবরাজ বলেন, “আমরা কেবল ভূত নয়— খুঁজি চেতনার রহস্য (Consciousness Mystery) ও মৃত্যুর পরের বাস্তবতা।” অন্যদিকে, আশা অবধানির সংস্থা ‘সোল অ্যাকসেস (Soul Access)’ কাজ করে মিডিয়ামশিপ (Mediumship) ও স্পিরিট ক্লিনজিং (Spirit Cleansing)-এর মাধ্যমে। আশা জানান, পশ্চিমের ডেমোনোলজি (Demonology) শিখে তিনি আজ বহু পরিবারকে সাহায্য করেছেন। ভূত আছে কি নেই, তা নিয়ে বিতর্ক চিরন্তন। তবু কলকাতার এই ভূত-সন্ধানীরা বিশ্বাস করেন— ভয় নয়, অনুসন্ধানই প্রেতলোক বোঝার একমাত্র পথ।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole