নিউজ পোল ব্যুরো:বিহারের রাজনীতি এখন পুরোপুরি ভোটমুখী। আর এই আবহেই বেগুসরাইয়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কার্যত আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু করলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi Bihar rally)। রবিবার জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি তোপ দাগলেন — “মোদী ভোটের আগে যোগাসন করেন, প্রতিশ্রুতি দেন, নাটক করেন। কিন্তু ভোট শেষ হতেই উনি ‘ভ্যানিশ’। তখন নাচেন আদানি-আম্বানি!”
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/11/02/modi-attack-congress-pakistan-operation-sindoor-bihar-election/
রাহুলের কটাক্ষ, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভোটের আগে এসে বলেন— আপনারা যা চান, আমি তাই করব। নানা প্রতিশ্রুতিতে ভরিয়ে দেন জনসভা। কিন্তু ভোট মিটলেই উনি উধাও! বিহারের মানুষ তাঁকে আর দেখতে পান না, তাঁদের কথাও শোনেন না। তাই আমি বলি, যা কিছু করাতে চান এখনই করিয়ে নিন, কারণ ভোট শেষ হলে আর উনাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “উনি যোগাসন করতে বললে আসন দেখিয়ে দেবেন, কিন্তু ভোটের পরে নাচগান যা হবে, সেটা করবেন আদানি-আম্বানি! এ সবই একপ্রকার নাটক। মানুষের চোখে ধুলো দিতে উনি সব কিছু করতে পারেন। কিন্তু আসল সত্যি হল, দেশ চালাচ্ছেন না মোদী, দেশ চালাচ্ছে দুই কর্পোরেট ঘনিষ্ঠ — আদানি ও আম্বানি।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
রাহুল (Rahul Gandhi Bihar rally) এখানেই থামেননি। তাঁর দাবি, “যে মোদী ৫৬ ইঞ্চির বুকের দম্ভ দেখান, সেই মোদীই আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখের সামনে নরম হয়ে যান। ট্রাম্প তাঁকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ বন্ধ করতে বলেছিলেন, আর মোদী দু’দিনের মধ্যেই তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন! এটাই আসল মোদীর চরিত্র — যিনি ট্রাম্পকে ভয় পান, আর আদানি-আম্বানির রিমোট কন্ট্রোলে কাজ করেন।”
রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি এদিন রাহুলের অন্যরকম এক দিকও দেখতে পেল বিহারবাসী। বেগুসরাইয়ের জনসভা শেষে রাস্তায় যাওয়ার সময় তিনি দেখেন এক পুকুরের ধারে স্থানীয়রা মাছ ধরছেন। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর নিজেই নেমে পড়েন সেই কাজে। প্রথমে নৌকায় উঠে মাছ ধরার প্রক্রিয়া দেখেন রাহুল, এরপর হঠাৎই লাফিয়ে পড়েন জলে! তাঁর সঙ্গে জলে নামেন মুকেশ সাহানি, কানহাইয়া কুমার, এমনকি তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরাও। স্থানীয়দের সঙ্গে মিলে জাল টেনে মাছ ধরেন রাহুল।
সেই মুহূর্তের ভিডিও ইতিমধ্যেই ঝড় তুলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহল — সবার মধ্যেই রাহুলের এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ বলছেন, “মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার রাজনীতি,” কেউ আবার বলছেন, “এটাও ভোটের কৌশল।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাহুল গান্ধী এবার চেষ্টা করছেন এক নতুন ইমেজ গড়ে তুলতে — এক জননেতা, যিনি জনতার মধ্যে, তাঁদের সঙ্গে, তাঁদের সমস্যার পাশে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করতে চান। অন্যদিকে বিজেপি শিবিরের দাবি, “রাহুলের এসব কাণ্ড কেবলমাত্র প্রচারের কৌশল, বাস্তবে মানুষের জন্য কিছুই করেন না।”
বিহারের মাটিতে মোদী-বিরোধী সুরে রাহুলের এই প্রচারাভিযান এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। নির্বাচনী ময়দানে কংগ্রেসের পক্ষে এই আক্রমণ কতটা ফলপ্রসূ হয়, তা সময়ই বলবে।
