নিউজ পোল ব্যুরো:শিল্পের সম্ভাবনা ও টাটা প্রসঙ্গ টেনে ১৮ বছর পর সিঙ্গুরে ‘পরিবর্তন’-এর ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই আহ্বানের পাল্টা জবাব দিতে প্রায় একই সময়ে রাজনীতির ময়দানে নামলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee attacks BJP)। নদিয়ার চাপড়ায় জনসভা করে সরাসরি বিজেপিকে একহাত নিলেন তিনি। ভরা মাঠ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন— তৃণমূলকে যারা আক্রমণ করছে, তারা একবার নদিয়ার মাটিতে এসে বাস্তবটা দেখে যাক।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/18/bcci-announced-indias-womens-team-squad-for-australia-tour/
এসআইআর (SIR) ইস্যুতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক শাসক শিবির। চাপড়ার সভা থেকেও সেই সুরই শোনা গেল অভিষেকের গলায়। মোদী-অমিত শাহকে কার্যত ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “অমর্ত্য সেনকে (Amartya Sen) এসআইআরের নোটিস পাঠানো হচ্ছে, দেবকে (Dev) হিয়ারিংয়ের নোটিস দেওয়া হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) বা শ্রীচৈতন্য (Sri Chaitanya) বেঁচে থাকলে তাঁদেরও হয়তো নোটিস পাঠানো হত।” তাঁর চ্যালেঞ্জ, “উনি বৈধ, আমরা অবৈধ— এই তত্ত্ব চলছে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী এসআইআর করুন না, কত দম দেখি। একমাত্র বাংলা এর বিরুদ্ধে লড়ছে।”
অভিষেকের (Abhishek Banerjee attacks BJP) দাবি, দেশের প্রায় সব রাজ্যই এসআইআর প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রকে সহযোগিতা করেছে। মানুষের সমস্যার কথা মাথায় রেখে একমাত্র তৃণমূলই এর বিরোধিতা করছে। সেই কারণেই বিজেপি বহু রাজ্যে জয় পেলেও বাংলায় বারবার তৃণমূলের কাছে পরাজিত হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য।
বিজেপির শক্তি ক্ষয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অভিষেক বলেন, মানুষের সমর্থন তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছে। বিজেপির প্রতি মানুষের ভালবাসা নেই বলেই তারা বাংলায় পরপর হারছে। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী দিনে এই রাজ্যে বিজেপি ৫০-এরও কম আসনে নেমে যাবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
বাংলায় ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক। বলেন, “বাংলার ক্ষমতা দেখাতে হবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে মানুষ বাড়ি থেকে বেরোতেই পারবে না, সবকিছুতেই ফর্ম ফিলআপ করতে হবে।” প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, “বাংলায় এসে পরিবর্তনের কথা বলছেন মোদী। কিন্তু ইতিহাস ভুলে যাচ্ছেন। লর্ড কার্জন (Lord Curzon) বহু বছর আগে এসেও বাংলাকে ভাঙতে পারেননি।”
চাপড়ার সভায় আবাস যোজনার প্রসঙ্গও ওঠে। অভিষেক ঘোষণা করেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সরকার ২০ লক্ষ মানুষের মাথার উপর ছাদ নিশ্চিত করবে। আবাসের টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে দেওয়া হবে।
ভাষণে উঠে আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সংগ্রামের কথাও— গীতাপাঠে মারধর থেকে শুরু করে ৩৪ বছরের শাসন ভেঙে ক্ষমতায় আসার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে বিজেপিকে তা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সাম্প্রতিক গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে মারধরের ঘটনার উল্লেখ করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ বলেন, “একজন চিকেন প্যাটিস বিক্রি করায় মারধর করা হয়েছে। ৭০টা সিট পেয়ে যদি এই অবস্থা হয়, বেশি পেলে কী হবে?”
শেষে হিন্দুত্ব প্রসঙ্গে অভিষেক স্পষ্ট করেন, তৃণমূল স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) আদর্শে বিশ্বাসী। যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) হিন্দুত্বে নয়। ভাঙা-গুঁড়িয়ে দেওয়ার রাজনীতি তৃণমূল করে না বলেও তিনি দাবি করেন।
