নিউজ পোল ব্যুরো:বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলার মানুষের প্রাপ্য নিয়ে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা—এই ছবি অতীতেও দেখা যায়নি, রবিবার সিঙ্গুরেও তার ব্যতিক্রম হল না। সিঙ্গুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণে নতুন কোনও প্রতিশ্রুতি না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই হতাশা ছড়ায়। আর সেই সুযোগেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘মিথ্যার জমিদারি’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা আক্রমণে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh attacks Narendra Modi) সাফ বলেন, “সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী যা বললেন, তার সারকথা একটাই—বলছে ঝুট, করছে লুট।” তাঁর অভিযোগ, সিঙ্গুর নিয়ে মোদীর ভাষণে কোনও স্পষ্ট দিকনির্দেশ ছিল না। কারণ একটাই—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে আন্দোলন হয়েছিল, তা শিল্পবিরোধী ছিল না। সেই আন্দোলন ছিল কৃষিজমি রক্ষা, কৃষক, কৃষিজীবী ও খেতমজুরদের বাঁচার লড়াই।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/18/abhishek-banerjee-attacks-bjp-chapra-rally-housing-announcement/
কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “শিল্প একশোবার হবে, শিল্পের জন্য জমি হবে। কিন্তু উর্বর কৃষিজমি জোর করে দখল করে মানুষের সর্বনাশ হতে পারে না। এই সত্যটাই প্রধানমন্ত্রী বলতে পারেননি।” তিনি আরও বলেন, সিপিআইএম ও কংগ্রেসের একাংশ তখন বিজেপির সঙ্গে সুর মিলিয়ে লাফালাফি করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের মূল ছিল কৃষকের অধিকার রক্ষা।
সিঙ্গুরে কোনও প্রতিশ্রুতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে রাজ্য সরকারের উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh attacks Narendra Modi)। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সিঙ্গুর ও আশপাশের এলাকায় বিপুল কর্মসংস্থানের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। ফ্লিপকার্ট, অ্যামাজনের মতো সংস্থার বড় ওয়্যারহাউস তৈরি হচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং আনুষঙ্গিক উন্নয়ন হবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttps://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নতুন করে ‘মিথ্যাচার’-এর নজির তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কুণাল ঘোষ। দুর্গাপুজোর ইউনেস্কো স্বীকৃতি প্রসঙ্গে মোদীর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলছেন, দুর্গাপুজোর ইউনেস্কো স্বীকৃতি নাকি ওঁদের জন্য! যখন ইউপিএ সরকার ছিল, তখন বাংলায় সিপিআইএম সরকার ছিল—যারা পুজো-অর্চনার ত্রিসীমানায় যেত না। উৎসবের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সম্প্রীতিকে চাঙ্গা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।” তাঁর দাবি, ইউনেস্কোর স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র তৈরি করেছে রাজ্য সরকার এবং এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব মুখ্যমন্ত্রীর।
রেল পরিষেবা নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘ফাঁপা’ বলে কটাক্ষ করেন কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে মাত্র তিনটি ট্রেনের ঘোষণা করেছেন মোদী। পাল্টা হিসেবে তিনি দাবি করেন, “বাংলায় প্রকৃত রেল বিপ্লব করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পাহাড় থেকে সাগর—প্রায় প্রতিটি জেলায় নতুন ট্রেন, নতুন রুট, নতুন লাইন চালু হয়েছে।” একলাখি-বালুরঘাট, দিঘা-তমলুকের মতো রুট থেকে শুরু করে লোকাল ট্রেন বৃদ্ধি এবং শিয়ালদহ রাজধানী, দুরন্ত এক্সপ্রেসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে সংযোগ—সবই রাজ্য সরকারের উদ্যোগে হয়েছে বলে দাবি তৃণমূল নেতার। ওর
সবশেষে কুণাল ঘোষের মন্তব্য, “আজ সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শুধু মিথ্যার জমিদারি করে গিয়েছেন। বাংলার মানুষ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে গণতান্ত্রিকভাবে এর উপযুক্ত জবাব দেবেন।”
