নিউজ পোল ব্যুরো:বৃহন্মুম্বই পুরনিগম (বিএমসি) নির্বাচনে (Mumbai civic body election) বিজেপির সর্বকালের সেরা ফলাফল রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে। একদিকে এই সাফল্য বিজেপিকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে বৃহন্মুম্বইয়ের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসা ঠাকরে পরিবারের আধিপত্যে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। যদিও ফল প্রকাশের পরই শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, লড়াই এখানেই শেষ নয়। তাঁর দাবি, ভোট শেষ হলেও আসল রাজনীতি এখনও শুরু হয়নি, অর্থাৎ ক্ষমতার সমীকরণ বদলের খেলা এখনও বাকি।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/18/kunal-ghosh-attacks-narendra-modi-singur-rally/
এই ফলাফলের পর বৃহন্মুম্বইয়ে (Mumbai civic body election) সত্যিই কি ঠাকরে দুর্গের পতন ঘটল—তা নিয়েই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। নজর ঘুরে যাচ্ছে উদ্ধব ঠাকরে ও মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের দিকে। অতীতে এই দুই নেতা একই শিবিরে থেকে বিএমসি-র মেয়র পদ দখল করেছিলেন। কিন্তু শিন্দে উদ্ধবের নেতৃত্ব ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর রাজ্যের রাজনৈতিক চিত্র আমূল বদলে যায়। ভেঙে পড়ে উদ্ধব সরকারের ভিত, বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে শিন্দে মুখ্যমন্ত্রী হন। পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে সেই জোট ক্ষমতা ধরে রাখলেও মুখ্যমন্ত্রী পদে রদবদল ঘটে—দেবেন্দ্র ফডণবীস মুখ্যমন্ত্রী হন এবং শিন্দে উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।
মুখ্যমন্ত্রী পদ ঘিরে বিজেপি ও শিন্দেশিবিরের মধ্যে যে চাপা মতানৈক্য ছিল, তা বিএমসি-র মেয়র নির্বাচন ঘিরে আবার সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিজেপির প্রার্থী মেয়র হলে শিন্দে তা কতটা স্বচ্ছন্দে মেনে নেবেন, সেই প্রশ্নেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। উদ্ধব শিবির এই সম্ভাব্য দ্বন্দ্বকে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে বলেও মত পর্যবেক্ষকদের।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttps://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
সংখ্যার হিসাবে বিজেপি পেয়েছে ৮৯টি ওয়ার্ড, শিন্দের শিবসেনা পেয়েছে ২৯টি। উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি), রাজ ঠাকরের এমএনএস এবং শরদ পওয়ারের এনসিপি (এসপি) মিলিয়ে মোট ৭২টি আসন জিতেছে। কংগ্রেসের ঝুলিতে এসেছে ২৪টি আসন, এআইএমআইএম পেয়েছে ৮টি, অজিত পওয়ারের এনসিপি পেয়েছে ৩টি এবং সমাজবাদী পার্টি পেয়েছে ২টি আসন। ২২৭ ওয়ার্ডের বিএমসি-তে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৪টি আসন। বিজেপি ও শিন্দে শিবসেনার মিলিত আসন সংখ্যা ১১৮, অর্থাৎ তারা জাদুসংখ্যা পার করেছে। অজিত পওয়ারের এনসিপি সমর্থন দিলে শাসক জোটের শক্তি বেড়ে দাঁড়াবে ১২১-এ। তবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা কতটা টেকসই হবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা।
কারণ বিরোধী শিবির নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হলে তাদের মোট আসন দাঁড়াতে পারে ১০৬, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে কিছুটা কম হলেও রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী। এই প্রেক্ষাপটেই আবার সামনে এসেছে ‘ভাঙন রাজনীতি’র আশঙ্কা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এক সময় যেভাবে শিবসেনা ভেঙে সরকার গড়েছিলেন শিন্দে, তেমনই কৌশলে এবার শিন্দে শিবসেনার জয়ী প্রার্থীদের টানার চেষ্টা করতে পারেন উদ্ধব ঠাকরে। এই আশঙ্কায় শিন্দেশিবির তাদের জয়ী কাউন্সিলরদের একত্রে রেখে নজরদারিতে রাখার কৌশল নিয়েছে বলে খবর।
উদ্ধব ঠাকরে নিজেও তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট করেছেন। শনিবার তিনি বলেন, মুম্বইয়ে শিবসেনা (ইউবিটি)-র মেয়র বসানো তাঁর স্বপ্ন এবং ঈশ্বর চাইলে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সাল থেকে টানা ২৫ বছর অবিভক্ত শিবসেনার দখলেই ছিল বিএমসি-র ক্ষমতা। ২০১৭ সালে শেষবার নির্বাচন হওয়ার পর ২০২২ পর্যন্ত সেই বোর্ডের মেয়াদ ছিল। এরপর দীর্ঘ সময় কমিশনারদের হাতেই পুরনিগম পরিচালিত হয়েছে। সেই দীর্ঘ ঐতিহ্যের পর এবার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে বৃহন্মুম্বইয়ের ক্ষমতার চাকা কোন দিকে ঘুরবে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
