নিউজ পোল ব্যুরো: এক সময় বাংলার গ্রামবাংলায় ছড়িয়ে ছিল টোল ও চতুষ্পাঠী—সেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলত শাস্ত্র, ন্যায়, স্মৃতিশাস্ত্র, ব্যাকরণ ও পুরাণের পাঠ। কেবল ব্রাহ্মণ সন্তানই নয়, অব্রাহ্মণ ও মেয়েরাও পাঠগ্রহণের অধিকার পেতেন। তবে এই শিক্ষার মূল সুর ছিল ধর্মীয়। আধুনিক ইংরেজি শিক্ষার বিস্তার বাড়তেই সেই প্রাচীন (Traditional Learning) ব্যবস্থা গুরুত্ব হারায়।
তবু, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি আজও বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে কিছু টোল বেঁচে আছে। ছাত্রসংখ্যা কমে এসেছে, পরিকাঠামো সঙ্কুচিত—তবুও প্রাচীন শিক্ষার প্রদীপ টিমটিম করে জ্বলছে। এবার সেই ঐতিহ্যের মর্যাদা দিতে উদ্যোগী হলো রাজ্য সরকার (Government Initiative)। সরকার জানিয়েছে, এবার টোলের পড়ুয়ারা পরীক্ষা দেবে Sanskrit University–র অধীনে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাঁদের হাতে দেওয়া হবে আনুষ্ঠানিক শংসাপত্র (Certification)। প্রশ্ন উঠছে—বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে কি সনাতন শিক্ষাকে সামনে আনা হচ্ছে?
আরও পড়ুন:http://Primary TET Exam: প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বড় বদল! বাড়ল TET নম্বর
সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার মণিশঙ্কর মণ্ডল জানান, সংস্কৃত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার পর মুখ্যমন্ত্রীই টোল–চতুষ্পাঠী পুনরুজ্জীবনের কথা বলেন। গত মার্চে Sanskrit Education Council বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসার পর শুরু হয় পুনর্গঠনের পরিকল্পনা। তার কথায়, আগের সরকার আমলে বহু টোল বন্ধ হয়েছিল; এবার আধুনিকীকরণের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবন হবে। তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল পর্যন্ত টোলগুলি সক্রিয় ছিল এবং সেবছরই শেষবার পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরে অর্থসাহায্যের অভাবে অনেক টোল স্বীকৃতি হারায়। বর্তমানে রাজ্যে মোট ৩২৮টি টোল সক্রিয়—এর মধ্যে ৪টি সরকারি, বাকিগুলি সরকারের ভাতাভোগী (DA Getting)। অবাক করার মতো বিষয় হলো, প্রায় ২৩ বছর ধরে এই ছাত্রদের কোনো পরীক্ষা হয়নি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই দীর্ঘ সময়ে প্রায় ৪৫০০ শিক্ষার্থী আদ্য, মধ্য ও উপাধি (মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক সমতুল) স্তরে পড়াশোনা করেছেন, কিন্তু কোনো recognized certificate পাননি। তাদের জন্যই ডিসেম্বর–জানুয়ারি মাসে পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। ভবিষ্যতের টোলগুলো কেমন হবে? কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, যুগোপযোগী পাঠক্রম (Modern Curriculum) তৈরি হবে। তবে তা নির্ভর করছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও আগ্রহের উপর। অনেক শিক্ষকের মতে, যদি এই উদ্যোগ সত্যিই প্রাচীন জ্ঞানসংস্কৃতিকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে হয়, তবে তা প্রশংসনীয়। তবে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইলে বিষয়টি হাস্যকর হয়ে উঠবে।
