Inder Singh Parmar apology:রামমোহনকে ‘ব্রিটিশদের দালাল’ বলার বিতর্কে ক্ষমাপ্রার্থী মধ্যপ্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী ইন্দর সিংহ পারমার!

রাজনীতি

নিউজ পোল ব্যুরো:রাজা রামমোহন রায়কে ‘ব্রিটিশদের দালাল’ এবং ‘ভুয়ো সমাজ সংস্কারক’ বলে কটাক্ষ করে তীব্র বিতর্কে জড়ালেন মধ্যপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ইন্দর সিংহ পারমার (Inder Singh Parmar apology)। বিরসা মুন্ডার সার্ধশত জন্মবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর বক্তব্য ঘিরে উত্তাল রাজনৈতিক মহল। সমালোচনার চাপে শেষ পর্যন্ত রবিবার ভিডিয়োবার্তায় দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/11/16/abhishek-banerjee-north-bengal-tour-nabajowar-2/

অনুষ্ঠানে ইন্দর (Inder Singh Parmar apology) দাবি করেছিলেন, রাজা রামমোহন রায় ব্রিটিশদের নির্দেশে কাজ করতেন এবং ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে ভারতীয় সমাজে ‘ধর্মান্তরণের চক্র’ চালু রাখতে ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁর আরও অভিযোগ, ঔপনিবেশিক শাসকেরা কয়েকজন ভারতীয়কে ‘ভুয়ো সমাজ সংস্কারক’ হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল, এবং রামমোহন ছিলেন তাঁদেরই একজন।

মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলার শাসকদল তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, “বাংলার মনীষীদের প্রতি বিজেপির ঘৃণার সীমা নেই।” শুধু তৃণমূলই নয়, সমালোচনায় সরব হয়ে ওঠে কংগ্রেসও। দলের মুখপাত্র ভূপেন্দ্র গুপ্ত প্রশ্ন তোলেন, “সতীদাহ প্রথা বিলোপ কি তবে ব্রিটিশ দালালি?” ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রীর অজ্ঞতাকেই দায়ী করেন তিনি।

বিতর্ক আরও বাড়ে যখন মধ্যপ্রদেশ বিজেপি-ও দূরত্ব তৈরি করে ইন্দরের মন্তব্যের সঙ্গে। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শিবম শুক্ল পরিষ্কার জানান, “এটি মন্ত্রীর ব্যক্তিগত মত। দেশের যাঁরা সমাজের জন্য কাজ করেছেন, তাঁদের সবাইকে সম্মান করে বিজেপি।”

সমালোচনার ঝড়ের মধ্যেই রবিবার দুপুরে ইন্দর সিংহ পারমার জানান, তাঁর মন্তব্য ‘ভুলবশত মুখ ফস্কে বেরিয়ে গেছে’। ভিডিয়োবার্তায় তাঁর বক্তব্য,-“বিরসা মুন্ডার জীবন নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভুল করে রাজা রামমোহন রায় সম্পর্কে অনুচিত কথা বলে ফেলেছি। এর জন্য গভীর দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। রামমোহন একজন বিখ্যাত সমাজ সংস্কারক ছিলেন।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

উল্লেখযোগ্য, রাজা রামমোহন রায় আধুনিক ভারতীয় নবজাগরণের জনক হিসেবে পরিচিত। সতীদাহ প্রথা বন্ধে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা স্বীকৃত বিশ্বজুড়ে। সেই সমাজ সংস্কারককে ‘ব্রিটিশদের দালাল’ আখ্যা দেওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

বিতর্কের চাপ বাড়তেই শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদলাতে বাধ্য হলেন মধ্যপ্রদেশের শিক্ষামন্ত্রী—রাজনৈতিক মহল বলছে, মন্তব্যে ‘ডিগবাজি’ খেলেন তিনি।