Enumeration Forms: এসআইআর বিতর্ক চূড়ান্ত পর্যায়ে , কমিশনের এনুমারেশন ফর্ম বিলি সংখ্যার খেলায় নতুন বিস্ফোরণ

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর–এর (Enumeration Forms) কাজকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের দাবি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে তীব্র অসংগতি সামনে এসেছে। কমিশনের বুলেটিনে বলা হয়েছে, বাংলায় ৯৯.৪২ শতাংশ এনুমারেশন ফর্ম বিলি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিএলএ থেকে শুরু করে বহু বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত

বিএলও–দের দাবি, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বহু বুথেই ৬০ থেকে ১৮০টি ফর্ম এখনও মানুষের হাতে পৌঁছোয়নি, কিছু জায়গায় এই সংখ্যাটি আরও বেশি।বিএলও–দের অভিযোগ, মৃত ভোটার, ঠিকানা বদল করা ভোটার এবং দীর্ঘদিন অনুপস্থিত এমন পরিবারের বহু ফর্ম এখনও অব্যবহৃত অবস্থায় জমা রয়েছে। ছুটির দিন হওয়ায় অনেকেই নিজেরাই যোগাযোগ করে ফর্ম সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ কেউ ফর্ম পূরণ করে জমাও দিতে শুরু করেছেন। শোনা যাচ্ছে, সময়মতো কাজ শেষ করতে না পেরে কয়েকজন বিএলও বাড়ি বাড়ি না গিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় বসে ফর্ম নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: Mamatabala Thakur: এসআইআরের প্রতিবাদে দীর্ঘ লড়াই, অভিষেকের আশ্বাসে অনশন তুলছেন মমতাবালা

কলকাতা দক্ষিণের নির্বাচন অফিসের একাংশের বক্তব্য, কমিশন রাত ৮টা পর্যন্ত ৯৯ শতাংশের বেশি বণ্টনের দাবি করলেও, বাস্তবে ৮০–৮২ শতাংশের মতো ফর্মই মানুষের হাতে পৌঁছেছে। তার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার সিইও অফিস থেকে সমস্ত বিএলওদের ১০০ শতাংশ ফর্ম বণ্টন দেখানোর জন্য তীব্র চাপ দেওয়া হয়। অবশিষ্ট ফর্মগুলিকেও ‘বণ্টন সম্পন্ন’ বলে কমিশনের অ্যাপে দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই গোপন বার্তা এখন রাজনৈতিক মহলের হাতে কমিশনের বিরুদ্ধে বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে।অপরদিকে, অ্যাপ ক্রমাগত বদল, সার্ভার সমস্যা এবং তথ্য আপলোডের জটিলতায় চূড়ান্ত সমস্যায় পড়ছেন বহু বিএলও। প্রবীণ ও স্মার্টফোনে কম দক্ষ কর্মীদের জন্য এই কাজ আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজের অতিরিক্ত চাপের ফলে এক বিএলও আগেই মারা গিয়েছেন। রবিবার কলকাতার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে অনিমেষ নন্দী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। বীরভূমে গোলাম নেহরু মণ্ডলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole

আরও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে কেরলে—পোয়নুরের এক বিএলও অনীশ জর্জ প্রবল মানসিক চাপে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পরিবারের দাবি। তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে থানায় এফআইআরও দায়ের হয়েছে।অভিযোগ, যেখানে প্রতি বুথে দু’জন করে বিএলও থাকার কথা, সেখানে ১,২০০–১,৩০০ ভোটারের বুথেও একজন করে কর্মীর উপর পুরো চাপ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—কমিশনের দাবি বাস্তব, নাকি শুধু অ্যাপের হিসেবেই ‘১০০ শতাংশ বণ্টন’?