Jadavpur University: ছাত্র নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, সিসিটিভি ইস্যুতে প্রশাসনের ব্যর্থতায় অসন্তুষ্ট হাই কোর্ট

কলকাতা শিক্ষা

নিউজ পোল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সিসিটিভি বসানো এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। এই ইস্যুতে রাজ্য সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে হলফনামা জমা দিয়ে পুরো বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে হবে রাজ্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় উভয় পক্ষকে।

আরও পড়ুন: NewTown: নিউটাউনে নিয়ন্ত্রণহীন ক্যাবের ধাক্কায় আহত ৬, ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা

শুক্রবার আদালতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের বেঞ্চ মন্তব্য করে জানায়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রশ্নে কোনওরকম শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের বক্তব্য, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এত দেরি কেন করা হল, সেই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি প্রশাসন। রাজ্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া ব্যাখ্যাও আদালতের মতে মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েক বছরে একাধিকবার অশান্ত পরিস্থিতির মুখে পড়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশিত হলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব দেখা গেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ওয়েবকুপার বৈঠক ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। সেই সময় ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং উপাচার্য আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি দুই ছাত্রনেতাও আহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিষয়টি আদালতের দ্বারস্থ হয়।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

পরবর্তীতে মামলাটি কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে গড়ায়। অভিযোগ ওঠে, অতীতের একাধিক হিংসাত্মক ঘটনার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজ্য কর্তৃপক্ষকে বৈঠকে বসে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে বলা হয়। সেই বৈঠকের পর একটি রিপোর্ট পেশ করা হয় হাই কোর্টে।

আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে ওই রিপোর্ট খতিয়ে দেখতে হবে এবং কোনও আপত্তি থাকলে আগামী সপ্তাহের শুনানিতে তা জানাতে হবে। পাশাপাশি রাজ্যের অনুমোদিত অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক কী কী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের অপরিহার্য দায়িত্ব।