নিউজ পোল ব্যুরো: মানবদেহের বাইরে নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) দীর্ঘক্ষণ সক্রিয় থাকতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের বাইরে এই ভাইরাসের (Nipah Virus) স্থায়িত্ব সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট থেকে বড়জোর দু’ঘণ্টা। তীব্র রোদ বা উষ্ণ পরিবেশে পড়লে নিপা ভাইরাস খুব দ্রুতই নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এই কারণেই নিপা নিয়ে অযথা আতঙ্ক ছড়ানোর প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য আধিকারিকরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর ইতিমধ্যেই সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। শুক্রবার পাঁচ সদস্যের এক বিশেষ চিকিৎসক দল নিপা ভাইরাস সংক্রান্ত নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করেছে।
নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, নিপা ভাইরাসে (Nipah Virus) আক্রান্ত হলে অন্তত ২১ দিনের নিভৃতবাস বা আইসোলেশন বাধ্যতামূলক। জনস্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. অনির্বাণ দলুই জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে সরকারিভাবে মাত্র দু’জন নিপা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের চিহ্নিত হওয়ার পরেই স্বাস্থ্য দপ্তর অত্যন্ত দ্রুত ও নিখুঁতভাবে কনট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে।
ডা. দলুইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, “এই দু’জন আক্রান্তের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের ছাড়া অন্য কারও ভয় পাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। নিপা করোনা ভাইরাসের মতো বাতাসে সহজে ছড়ায় না।” তাঁর আরও ব্যাখ্যা, নিপা মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির লালারস বা হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমেই ছড়াতে পারে। ফলে দীর্ঘক্ষণ খুব কাছাকাছি অবস্থান না করলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কম।
স্বাস্থ্য দপ্তরের গাইডলাইনে নিপা আক্রান্ত রোগী, উপসর্গযুক্ত ব্যক্তি, তাঁদের সংস্পর্শে আসা মানুষ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পৃথক ও স্পষ্ট নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শুধুমাত্র যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে খুব কাছাকাছি থেকে আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে একঘরে ছিলেন, তাঁরাই প্রকৃত ঝুঁকির মধ্যে পড়েন। তবে এমন ব্যক্তিদের মধ্যে যদি কারও কোনও উপসর্গ না-ও থাকে, তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ২১ দিনের নিভৃতবাসে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই সময় স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনে দু’বার ফোন করে তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেবেন।
এর পাশাপাশি নিপা সংক্রমণ এড়াতে সাধারণ মানুষের জন্যও একাধিক সাবধানতার কথা জানানো হয়েছে। বিশেষ করে ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বাদুড় বা অন্য কোনও প্রাণীর কামড় দেওয়া ফল কোনওভাবেই খাওয়া উচিত নয়। এই সময়ে খেজুর রস এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। পেয়ারা ও লিচুর মতো ফল ভালোভাবে ধুয়ে না খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। পাশাপাশি রাস্তায় কাটা ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য অসতর্কতা পুষ্টির বদলে সংক্রমণের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
