নিউজ পোল ব্যুরো:এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজাকে (Shashi Panja SIR hearing)। শ্যামপুকুর বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ককে সোমবার দুপুর ২টোর সময় কলকাতার কেশব অ্যাকাডেমিতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানিতে ডাকা প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শশী পাঁজা (Shashi Panja SIR hearing)। তিনি জানান, তাঁর নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে। অথচ নোটিসে দাবি করা হয়েছে, তিনি নাকি নিজের ও আত্মীয়দের সম্পর্ক সংক্রান্ত কিছু তথ্য দেননি। মন্ত্রীর কথায়, “আমি ২০০২ সালের সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে যাচ্ছি। এই সমস্যাটা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের। যদি অ্যাপ ঠিকভাবে আপডেট করা থাকত, তাহলে তো সব তথ্য অ্যাপের মধ্যেই থাকার কথা। ২০০২ সালে যখন আমার নাম রয়েছে, সেখানে নতুন করে কোনও তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। এটা অসম্মানজনক ও অপমানজনক।”
শশী পাঁজা আরও বলেন, বিষয়টি শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত সমস্যা নয়। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ ও সাধারণ ভোটাররা যেভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছেন, সেটাই সবচেয়ে উদ্বেগজনক। তাঁর ঠিকানা অপরিবর্তিত, তাঁর দুই সন্তান রয়েছে এবং সম্পর্কের জায়গায় স্বামীর নামই উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। “আমি বিয়ে করে এই বাড়িতে এসে ভোট দিয়েছি। সাধারণ মানুষ যেমন হিয়ারিংয়ের লাইনে দাঁড়িয়ে কাগজ জমা দিচ্ছেন, আমিও তাই করব,” বলেন তিনি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
মন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, তাঁর কোনও বিশেষ সুবিধা প্রয়োজন নেই। তবে নির্বাচন কমিশনের গাফিলতির কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “আমার ক্ষেত্রে হিয়ারিং সেন্টার খুব দূরে নয়, আমি নিজের এলাকাতেই থাকি। কিন্তু অনেক সাধারণ মানুষকে ২০-৩০ কিলোমিটার দূরে যেতে হচ্ছে এমন একটি কাজের জন্য, যার দায় নির্বাচন কমিশনের। কারণ কমিশনের অ্যাপটাই সঠিকভাবে কাজ করছে না।”
উল্লেখ্য, এর আগেও এসআইআর শুনানিতে তলব করা হয়েছে সাংসদ দেব, সাংসদ সামিরুল ইসলাম, রাজ্যের মন্ত্রী তাজমুল হোসেন-সহ বহু জনপ্রতিনিধিকে। এমনকি অমর্ত্য সেন, জয় গোস্বামী, মহম্মদ শামির মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের নামেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে বারবার সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার কলকাতায় রাজ্যের এক মন্ত্রীকে ডাকা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
