নিউজ পোল ব্যুরো:২৫ জানুয়ারি জাতীয় ভোটার দিবস। কিন্তু এমন এক সময়ে এই দিবস পালিত হচ্ছে, যখন সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারই অনিশ্চয়তার মুখে—এই অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee on Election Commission)। এসআইআর (SIR) শুনানির আবহে এক্স হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্টে কমিশন ও কেন্দ্রের ‘আঁতাঁত’ নিয়ে সরব হয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুনhttps://thenewspole.com/2026/01/25/passwords-leak-150-million-users-data-exposed-worldwide/
মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee on Election Commission)। অভিযোগ, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি’ নামক গুরুগম্ভীর শব্দ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে শুনানির লাইনে দাঁড় করিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার জেরে গোটা বাংলায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রবিবার বিজেপির পক্ষ থেকে জাতীয় ভোটার দিবস পালনের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এক্স হ্যান্ডলে মমতা লেখেন, “হিজ মাস্টার্স ভয়েস হিসেবে নির্বাচন কমিশন এই মুহূর্তে মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠন করতে ব্যস্ত, আর সেই কমিশনই জাতীয় ভোটার দিবস পালন করছে—এতে আমি স্তম্ভিত, বিস্মিত ও বিচলিত।”
নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তাঁর কড়া বার্তা, কমিশনের ‘অভূতপূর্ব অত্যাচারের’ ফলেই এখনও পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মমতার প্রশ্ন, ৮৫, ৯০ বা ৯৫ বছরের প্রবীণ মানুষ এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীদের শুনানির জন্য হাজির হতে বাধ্য করার অধিকার কমিশনের আছে কি না। তাঁর অভিযোগ, এই বেআইনি চাপ ও নিগ্রহের ফলেই আত্মহত্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে এবং সবই হচ্ছে ‘রাজনৈতিক প্রভুদের নির্দেশে’।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়াকে কার্যত নাগরিকদের জন্য NRC-তে পরিণত করা হয়েছে, যার ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং তপশিলি জাতি ও জনজাতির মানুষ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
প্রসঙ্গত, এসআইআর শুনানি ঘিরে কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক পদ্ধতিগত ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। এনুমারেশন ফর্মে সামান্য ভুলের জন্যও সরাসরি শুনানিকেন্দ্রে হাজিরার নোটিস পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই নোটিস থেকে বাদ পড়ছেন না সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ভোগান্তি ও ক্ষোভ।
এই আবহেই বিজেপির জাতীয় ভোটার দিবস পালন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে স্পষ্ট লিখেছেন—“ভোটার দিবস পালনের কোনও অধিকার আপনাদের আজ নেই।”
