Donald Trump: ‘পছন্দের প্রধানমন্ত্রী না হলে সাহায্য বন্ধ’, ইরাককে সরাসরি হুঁশিয়ারি ‘তেলখেকো’ ট্রাম্পের!

আন্তর্জাতিক

নিউজ পোল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে ফের অশান্তির ছায়া ঘনাচ্ছে। ইরান–আমেরিকা উত্তেজনার মধ্যেই এ বার মার্কিন চাপের মুখে পড়ল আর এক দেশ ইরাক। তেলনির্ভর এই রাষ্ট্রে আমেরিকার পছন্দের প্রধানমন্ত্রী না হলে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তাঁর এই মন্তব্যে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

ইরাকের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হয়েছেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নৌরি আল-মালিকি। তিনি শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত এবং ইসলামিক দাওয়া পার্টির শীর্ষ নেতা। ইরাকের পার্লামেন্টে এই শিয়া জোটের প্রভাব যথেষ্ট, যাদের ইরানঘনিষ্ঠ বলেই মনে করা হয়। এই গোষ্ঠীর তরফেই ফের নৌরির নাম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে। আর তাতেই চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, আল-মালিকি ক্ষমতায় ফিরলে ইরান ও ইরাকের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার কৌশলগত স্বার্থ বিপন্ন হতে পারে।

আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: ‘সরকারের গাফিলতিতেই এই মৃত্যু’, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডকে ‘ম্যান মেড’ তকমা দিয়ে শাসকদলকে বিঁধলেন শুভেন্দু

এই প্রেক্ষিতেই বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি ইরাককে সতর্ক করে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) লেখেন, “আমি শুনেছি নৌরি আল-মালিকি আবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। এটা দেশের জন্য মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, “শেষবার মালিকি ক্ষমতায় থাকার সময় ইরাক দারিদ্র, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে ডুবে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হলে আমেরিকা ইরাককে কোনও ধরনের সাহায্য দেবে না।” ট্রাম্পের (Donald Trump) সংযোজন, “এই সিদ্ধান্ত ইরাকের উন্নয়ন ও স্বাধীনতার সম্ভাবনাকেই শেষ করে দেবে। আমি চাই ইরাক আবার শক্তিশালী ও স্বনির্ভর হোক।”

সূত্রের খবর, আল-মালিকির ক্ষমতায় ফেরা ঠেকাতে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে আমেরিকা। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও সম্প্রতি ইরাকের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ শিয়া আল-সুদানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। সেই আলোচনায় তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরানপন্থী সরকার গঠিত হলে তা শুধু ইরাক নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, নৌরি আল-মালিকির রাজনৈতিক জীবন বিতর্কে ভরা। সত্তরের দশকে তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের বিরোধিতা করেছিলেন। ১৯৭৯ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কায় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি এবং দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকেন। পরে ২০০৬ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আল-মালিকি। এখন তাঁর প্রত্যাবর্তন ঘিরেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole