Suvendu Adhikari: ‘সরকারের গাফিলতিতেই এই মৃত্যু’, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডকে ‘ম্যান মেড’ তকমা দিয়ে শাসকদলকে বিঁধলেন শুভেন্দু

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘিরে বিতর্ক যেন আরও তীব্র হচ্ছে। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও কেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু (Sujit Bose) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তাঁর পরিবর্তে বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সেখানে পৌঁছন কেন—এই প্রশ্নও উঠছে বারবার। এই আবহেই অগ্নিকাণ্ডকে ‘ম্যান মেড ট্রাজেডি’ বলে ব্যাখ্যা করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং সরকারের চরম গাফিলতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:Anandapur Fire: মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, আনন্দপুর কাণ্ডে পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার পথে লালবাজার

শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বক্তব্য, পূর্ব কলকাতার জলাভূমি অঞ্চলের চরিত্র বদলে বেআইনি ভাবে শিল্প ইউনিট গড়ে উঠছে, অথচ তা রুখতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তিনি লিখেছেন, “আনন্দপুরের এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো শ্রমিকদের পরিবারগুলোর প্রতি আমি গভীর শোক জানাই। এখনও পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে, তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ এবং অনেকের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।” তিনি উল্লেখ করেন, মৃত ও নিখোঁজদের অধিকাংশই পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা এবং বেশিরভাগই ছিলেন তাঁদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তরুণ শ্রমিক।

বিরোধী দলনেতার (Suvendu Adhikari) অভিযোগ, নাজিরাবাদ এলাকার ওই গুদামগুলি বেআইনি ভাবে গড়ে উঠেছিল এবং কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। দাহ্য পদার্থে ভর্তি তালাবদ্ধ গুদামে শ্রমিকদের আটকে রাখা হয়েছিল, যেখানে জরুরি বেরনোর পথ বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কোনও বালাই ছিল না। সংকীর্ণ রাস্তার কারণে উদ্ধারকাজও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

শুভেন্দু আরও কটাক্ষ করে বলেন, “ঘটনার ৩০ ঘণ্টা পরে দমকলমন্ত্রী ঘটনাস্থলে পৌঁছন এবং উল্টে প্রশ্ন তোলেন, কেন মানুষ গুদামের ভেতরে ছিল। এটি লজ্জাজনক।” তাঁর মতে, এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের উদাসীনতা, দুর্নীতি ও অপশাসনের ওপর বর্তায়। এএমআরআই হাসপাতাল, বড়বাজারের আগুনের পরেও সরকার কোনও শিক্ষা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, “আমি এবং মুখ্যমন্ত্রী দু’জনেই এই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত। যাঁরা দায়ী, তাঁদের কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-  https://youtube.com/@thenewspole