Data Entry Operator: ট্যালি ও টাইপিং জানলেই বাড়তি সুবিধা! কোন দক্ষতায় খুলবে চাকরির দরজা?

শিক্ষা

নিউজ পোল ব্যুরো: সরকারি হোক বা বেসরকারি— অধিকাংশ চাকরির (Data Entry Operator) বিজ্ঞপ্তিতেই এখন শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, তার সঙ্গে অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থাকে। বিশেষ করে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, টাইপিং, ট্যালি বা জিএসটি–র মতো বিষয়ে স্বীকৃত সার্টিফিকেট কোর্স থাকলে প্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাড়তি গুরুত্ব পান। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দশম বা দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর এই ধরনের স্বল্পমেয়াদি কোর্স সম্পূর্ণ করা প্রার্থীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, কারণ সংস্থাগুলি এমন কর্মী খোঁজে যারা শুরু থেকেই কাজের পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বা হিসাবনিকাশের কাজে দক্ষতা দেখাতে সক্ষম। চাকরির বাজারে বাড়তি সুবিধা পেতে গেলে কোন কোর্সে ঠিক কী শেখানো হয়, তা জানা জরুরি। ট্যালি মূলত একটি অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যার, যার সাহায্যে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়, লেজার, ব্যালান্স শিট বা জিএসটি সংক্রান্ত হিসাব সহজে পরিচালনা করা যায়। এই সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নিলে হিসাবরক্ষক বা অ্যাকাউন্টস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে কাজের সুযোগ অনেকটাই বাড়ে। সাধারণত দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর থেকেই এই কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। অন্যদিকে, গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স বা জিএসটি হল দেশের একীভূত করব্যবস্থা, যা পণ্য উৎপাদন ও পরিষেবার উপর আরোপ করা হয়। জিএসটি–সংক্রান্ত কোর্সে করের নিয়মকানুন, ইনভয়েস তৈরি, রিটার্ন ফাইলিং এবং অনলাইন পোর্টালে কাজ করার পদ্ধতি বিস্তারিত ভাবে শেখানো হয়। বাণিজ্য বা বিজ্ঞান বিভাগে দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ পড়ুয়ারা এই প্রশিক্ষণ নিলে হিসাব ও ট্যাক্স–সংক্রান্ত কাজে দক্ষ (Data Entry Operator) হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুন:Bhumi Pednekar: আকাশছোঁয়া দাম! বোতলের জলে ‘হিমালয়ের ছোঁয়া’, নিজের ব্র্যান্ড নিয়ে ব্যাখ্যায় ভূমি!

টাইপিং কোর্সে শিক্ষার্থীদের দ্রুত এবং নির্ভুল ভাবে ইংরেজি লেখা টাইপ করার কৌশল শেখানো হয়, যা ডেটা এন্ট্রি, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ক্লারিক্যাল পদের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রয়োজনীয়। এর সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই শর্টহ্যান্ড শেখানো হয়, যেখানে সম্পূর্ণ শব্দের বদলে প্রতীকচিহ্নের মাধ্যমে দ্রুত নোট নেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দশম শ্রেণি পাশ করার পর থেকেই এই ধরনের কোর্সে ভর্তি হয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে এগিয়ে রাখে। বর্তমান কর্মক্ষেত্রে শুধু প্রথাগত ডিগ্রি নয়, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। কম্পিউটার (Data Entry Operator) অ্যাপ্লিকেশন–সংক্রান্ত কোর্সে ডেটাবেস তৈরি, প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত করা, বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্ট সংরক্ষণ ও ফাইল ম্যানেজমেন্ট, ই-মেল পরিচালনা, এমনকি প্রাথমিক স্তরের সাইবার সুরক্ষা ও ওয়েবসাইট ডোমেন হোস্টিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখানো হয়। দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর থেকেই এই ধরনের কোর্সে ভর্তি হয়ে অফিস–সংক্রান্ত নানা কাজে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব।

অ্যাডভান্সড এক্সেল কোর্সে শিক্ষার্থীরা শিখতে পারেন কী ভাবে বিশাল পরিমাণ তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করতে হয়, ডেটা ক্রমানুযায়ী সাজানো, ফিল্টার করা, সূত্র ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয় হিসাব করা এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট তৈরি করা যায়। তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এই দক্ষতা বিশেষ ভাবে কাজে লাগে এবং দশম উত্তীর্ণরাও এই কোর্সে অংশ নিতে পারেন। ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্সে শেখানো হয় অনলাইন মাধ্যমে কোনও পণ্য বা পরিষেবার প্রচার কৌশল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন, অনলাইন বিজ্ঞাপন পরিচালনা এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গ্রাহকদের কাছে পৌঁছনোর পদ্ধতি। প্রযুক্তিনির্ভর এই দক্ষতাগুলি বর্তমান সময়ে প্রায় সব ক্ষেত্রেই চাহিদাসম্পন্ন হয়ে উঠেছে, ফলে স্বল্প সময়ের এই প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতের কর্মজীবনে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

বর্তমান চাকরির বাজারে নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলে প্রার্থীরা সহজেই এগিয়ে থাকতে পারেন। ট্যালি বা জিএসটি–তে দক্ষতা থাকলে অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা ট্যালি অপারেটর পদে কাজের সুযোগ বাড়ে, কারণ বেশির ভাগ সংস্থাই এখন হিসাবরক্ষার কাজ সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনা করে। ইংরেজি টাইপিং ও শর্টহ্যান্ড জানা থাকলে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ক্লারিক্যাল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। একই ভাবে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ও অ্যাডভান্সড এক্সেল–এ প্রশিক্ষণ থাকলে কম্পিউটার অপারেটর বা অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজের ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়, আর ডিজিটাল মার্কেটিং–এ দক্ষতা থাকলে বিভিন্ন সংস্থায় ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরির সুযোগ তৈরি হয়।

এই ধরনের কোর্সগুলি সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষণ সংস্থা থেকে করানো হয়। বর্তমানে অনলাইন শিক্ষার প্রসার ঘটায় ঘরে বসেই এই কোর্সগুলিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পোর্টালের মাধ্যমে অনেক কোর্স বিনামূল্যে করার সুযোগ মিললেও, কিছু ক্ষেত্রে কোর্সের ধরন ও সময়সীমার উপর নির্ভর করে প্রায় পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole