Humayun Kabir:“হাঁটু গেড়ে ক্ষমা প্রার্থনা না করলে সমর্থন নয়”—শর্তসাপেক্ষ ‘সন্ধি’র বার্তায় রাজনৈতিক তরঙ্গ তুললেন হুমায়ুন কবীর!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব সমাপ্তির পর, ফলপ্রকাশের প্রাক্কালে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও জল্পনার আবহ তৈরি করলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির শীর্ষনেতা হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। বহরমপুরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্দেশে আপাত-সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও, সেই সম্ভাব্য সমর্থনকে কঠোর ও প্রায় অপমানজনক শর্তের আবরণে বেঁধে দেন।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/05/03/election-commission-165-observers-vote-counting-security-west-bengal/

তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় রাজনৈতিক কৌশল ও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার প্রচেষ্টা। তিনি ঘোষণা করেন, তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রকাশ্যে নিজেদের অতীত ‘ত্রুটি’ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করতে হবে, এমনকি প্রতীকীভাবে “হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চাইতে হবে”—এই বার্তাই তিনি উচ্চারণ করেন এক প্রকার রাজনৈতিক ভাষ্যরূপে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার না থাকলে কোনওরূপ সমর্থনের প্রশ্নই উঠবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

এদিকে, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষিতে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে আপাত সমঝোতার ইঙ্গিতের আড়ালেও তাঁর তীক্ষ্ণ কটাক্ষের তীর এড়িয়ে যাননি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে মন্তব্য করেন, ফলপ্রকাশের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশমুখী হতে পারেন এবং মুখ্যমন্ত্রী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে নিজেকে নিবিষ্ট রাখবেন—যা রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

উল্লেখযোগ্যভাবে, নির্বাচনের পূর্বেই দলবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হন ভরতপুরের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। পরবর্তীকালে তিনি ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করে ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষী ঘোষণা করলেও, নির্বাচনের মুখে দলীয় ভাঙন প্রকট আকার ধারণ করে। প্রায় ৮০টি আসনে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার সংগঠনের সাংগঠনিক দুর্বলতাকে প্রকাশ্যে এনে দেয়। এরই মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে কথিত আর্থিক সমঝোতা সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে এবং দলীয় শৃঙ্খলাও বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে।

এই জটিল প্রেক্ষাপটে ভোটপর্বের অবসান ঘটতেই হুমায়ুন কবীরের আকস্মিক অবস্থান পরিবর্তন এবং তৃণমূলের প্রতি শর্তসাপেক্ষ সমর্থনের বার্তা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলপ্রকাশের পর এই বক্তব্য বাস্তব রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়, এখন সেদিকেই নিবিড় দৃষ্টি রাখছে রাজনৈতিক মহল।