নিউজপোল ব্যুরো: জোকার একটি সরকারি জমি থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি বেআইনিভাবে মাটি লুটের ঘটনা সামনে আসতেই সোজা থানায় হাজির হয়েছেন বিজেপি নেতারা। বিরোধী শিবিরের দাবি, সরকারি খাস জমি থেকে কয়েকশো কোটি টাকার মাটি পাচার হয়েছে। অভিযোগের তির ঘুরে গিয়েছে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলের দিকেও।
মাটি কাটার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, সেখানে প্রায় ১২০ ফুট গভীর এক আদিগন্ত গর্ত বা বিশাল খাদের সৃষ্টি হয়েছে! এই মাটি পাচারের নেপথ্যে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বিশাল দুর্নীতির গন্ধ দেখছে পদ্ম শিবির। সবচেয়ে বড় চমক হলো, এই কাণ্ডে শুধু অভিষেক নন, নাম জড়িয়েছে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তের একাধিক নেতার। এফআইআর-এ নাম রয়েছে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের। সেই সঙ্গে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা ব্লকের তৃণমূল সভাপতি বিপ্লব মণ্ডলকেও। তবে সবথেকে বড় রহস্য দানা বেঁধেছে অভিষেকের আপ্ত সহায়ক (PA) সুমিত রায়কে নিয়ে।জমি জালিয়াতির অন্য একটি পৃথক মামলায় সুমিত রায়ের নাম জড়ানোর পর থেকেই তাঁর কোনো হদিশ মিলছে না।
তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা না করায় ইতিমধ্যেই সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে মেদিনীপুর আদালত। তল্লাশি চালাতে পুলিশ অভিষেকের বাড়ির দরজায় পৌঁছালেও সুমিত এখনও ফেরার। আর এই উত্তেজনার মাঝেই নতুন করে জোকায় ৩০০ কোটির মাটি লোপাটের অভিযোগ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। সব মিলিয়ে, পিএ সুমিত রায়ের ফেরার হওয়া এবং একের পর এক দুর্নীতির তির সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ওঠায় চরম অস্বস্তিতে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। সরকারি খাস জমি কেটে ৩০০ কোটি পকেটে তোলার এই মারাত্মক অভিযোগ থেকে অভিষেক নিজেকে কীভাবে বাঁচান, নাকি এই মাটি চুরির খাদেই শেষ পর্যন্ত তলিয়ে যাবে সেটাই এখন দেখার!
