“আইন সবার জন্য সমান!” অভিষেকের শান্তিনিকেতনের বেআইনি সাম্রাজ্য মাপতে ফিতে হাতে বেআইনি সাম্রাজ্য ভাঙতে কোমর বাঁধল কালীঘাটে KMC টিম!

breakingnews রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: কয়লা বা গরু পাচার নয়, এবার কলকাতায় নিজের বাড়ি ও সম্পত্তির বেআইনি নির্মাণ বিতর্কে বিধ্বস্ত হয়ে পরলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ি এবং তাঁর সংস্থা ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর সম্পত্তি সহ মোট ১৭টি ঠিকানায় ঠিক কতটা বেআইনি নির্মাণ হয়েছে, তার তদন্ত করতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে কলকাতা পুরসভা (KMC)। অভিষেকের আইনজীবীর জমা দেওয়া তথ্যের সাথে বাস্তবের মিল আছে কি না, তা হাতেনাতে খতিয়ে দেখতে আজ সরাসরি কালীঘাটের ডেরায় পৌঁছে গেল পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের একটি বিশেষ টিম।

গতকালই পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, আইন সবার জন্য সমান এবং কোনো বেআইনি কাজ বরদাস্ত করা হবে না। গত ১৮ মে পুরসভার আইন অনুযায়ী ৪০০(১) ধারায় অভিষেককে নোটিশ পাঠিয়ে ৭ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আইনি রক্ষাকবচ পেতে ভাইপো ব্রিগেড আদালতের দ্বারস্থ হলেও শেষরক্ষা হয়নি।

গত ৩ জুন কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের বিচারপতি স্মিতা দাস দে সাফ নির্দেশ দেন যে, সাত দিনের মধ্যে পুরসভাকে জানাতে হবে ঠিক কোন কোন অংশ বেআইনি। আদালতের সেই কড়া চাবুক পিঠে পড়ার পরেই তথ্য জমা দিতে বাধ্য হন অভিষেকের আইনজীবীরা। আর সেই নথি হাতে পেতেই আজ অ্যাকশন মোডে কেএমসি! পুরসভা সূত্রে খবর, যদি আইনজীবীর দেওয়া তথ্যের সাথে বাস্তবের মাপজোখে একটুও গরমিল মেলে, তবে ‘কলকাতা মিউনিসিপাল অ্যাক্ট ১৯৮০’ অনুযায়ী কড়া আইনি হাতুড়ি পড়বে অভিষেকের সাম্রাজ্যে। আইনের এই সাঁড়াশি চাপে এখন রীতিমতো কাঁপন ধরেছে কালীঘাটের অন্দরে। একাংশের মতে, এই যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ তদন্ত ও যাচাইয়ের পর পুরসভার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকেই এখন নজর সকলের।