Sukanta Majumdar statement:হিংসার মাধ্যমে বিরোধী কণ্ঠ স্তব্ধ করতে চাইছে শাসকদল: সুকান্ত মজুমদার!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:রাজ্যের বিরোধী দলনেতার উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত বলে আখ্যা দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar statement)। রবিবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবেই রাজ্যে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/12/election-commission-approves-tea-garden-documents-for-voter-registration-north-bengal/

সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar statement) দাবি, বিরোধী দলনেতার উপর হামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি রাজ্যে চলতে থাকা ধারাবাহিক রাজনৈতিক হিংসারই অংশ। তাঁর কথায়, এর আগেও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে শাসকদল রাজ্যজুড়ে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে, যাতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত থাকে এবং বিরোধীরা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিতে না পারে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttps://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ক্রমশই হিংসা ও সন্ত্রাসের পথে এগোচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার একটি রাজনৈতিক কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। এরপর সেই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী সহানুভূতির আবহ তৈরি করে আবার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছেন বলেও দাবি তাঁর।

তবে সুকান্ত মজুমদারের মতে, রাজ্যের মানুষ এখন এই রাজনীতির কৌশল বুঝে গিয়েছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সাধারণ মানুষ আর হিংসা, দুর্নীতি ও ভয়ের রাজনীতি চায় না এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে ফের রাজ্যের ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেবে না।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক হিংসা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আগাম ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান সুকান্ত মজুমদার। তাঁর মতে, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পর্যাপ্ত মোতায়েন, সংবেদনশীল এলাকায় কড়া নজরদারি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

প্রতিবাদের ভাষা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতন্ত্রে প্রতিবাদ অবশ্যই হবে, কিন্তু সেই প্রতিবাদ কখনও কালো পতাকা দেখানো, পথ অবরোধ করা বা বাঁশ ও অস্ত্র নিয়ে আক্রমণের রূপ নিতে পারে না। এই ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী এবং রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটাচ্ছে।

 

সবশেষে সুকান্ত মজুমদার জানান, রাজনৈতিক হিংসা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিজেপি রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। গণতন্ত্র, মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নে বিজেপি কোনও আপস করবে না বলেও তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান।