নিউজ পোল ব্যুরো:বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari Election Commission appeal) আবেদনে সাড়া নির্বাচন কমিশনের, চা-বাগানের নথিতেই ভোটার তালিকাভুক্তির ছাড়পত্র!উত্তরবঙ্গের চা-বাগান ও সিঙ্কোনা বাগান এলাকার বাসিন্দাদের ভোটার তালিকাভুক্তি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জট কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় পরিচয় ও বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে চা-বাগান এবং সিঙ্কোনা বাগানের কর্মসংস্থানের নথিকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায়।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/12/india-us-trade-deal-piyush-goyal-rejects-trump-phone-call-claim/
দীর্ঘদিন ধরেই নথিপত্রের অভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়ছিলেন চা-বাগানের শ্রমিক, আদিবাসী সমাজের মানুষ এবং বনাঞ্চলের বাসিন্দারা। আধার, জমির কাগজ বা স্থায়ী বাসস্থানের প্রমাণ না থাকায় বহু মানুষ কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন—এমন অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে সেই সমস্যার বড় অংশের সমাধান হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিজেপি সূত্রে এই সিদ্ধান্তকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দলের দাবি, রাজ্য সরকারের দীর্ঘদিনের উদাসীনতার কারণেই এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার যোগ্য ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে বলে বিজেপির নেতৃত্বের মত।
এই প্রসঙ্গে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari Election Commission appeal) বলেন, উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী জনজাতি, বনবাসী এবং চা-বাগান ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে নথিগত সমস্যার কারণে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি রাজ্য সরকারের উদাসীনতাকেই দায়ী করেন। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত একটি বড় জয় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী উত্তরবঙ্গের যোগ্য ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন,“চা বাগান বা সিঙ্কোনা বাগানের কর্মসংস্থানের নথি ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করতে এগিয়ে আসুন। আপনার ভোটই আপনার প্রকৃত শক্তি।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে চা-বাগান ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নথিকে পরিচয় ও বাসস্থানের সরকারি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার আবেদন জানানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে একটি নির্ভুল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটার তালিকা অপরিহার্য। প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার কারণে যাতে আর কোনও যোগ্য নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
