Piyush Goyal on US trade talks:একটি ফোন, একটি চুক্তি—এই তত্ত্ব মানে না ভারত: ট্রাম্প প্রশাসনের দাবিতে স্পষ্ট জবাব পীযূষ গয়ালের!

রাজনীতি

নিউজ পোল ব্যুরো:ভারত–আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কে এবার স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান নিল ভারত। রবিবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল (Piyush Goyal on US trade talks) জানালেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যচুক্তির মতো সংবেদনশীল বিষয় কোনও বিদেশি বিবৃতি বা প্রকাশ্য চাপের ভিত্তিতে নয়, বরং বন্ধ দরজার আড়ালেই কূটনৈতিক পরিসরে আলোচনা হওয়াই শ্রেয়।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/11/bengali-migrant-worker-attacked-odisha/

মুম্বইয়ে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পীযূষ গয়াল (Piyush Goyal on US trade talks) বলেন,“বিদেশি রাষ্ট্রের দেওয়া বিবৃতিতে নয়, নিজের দেশকে বিশ্বাস করুন। ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ভারত কখনও আপস করে না।”

এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে দাবি করা হয়েছিল—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন না করায় ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি ভেস্তে গিয়েছে। মার্কিন বাণিজ্যসচিব ও ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ আধিকারিক হাওয়ার্ড লুটনিক এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘ডিল’ ছিল। শুধু একটি ফোন কল প্রয়োজন ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী সেই ফোন করেননি।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttps://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

লুটনিক আরও দাবি করেন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনামের আগেই ভারতের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হবে বলে তাঁরা আশা করেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

ওয়াশিংটনের এই দাবিকে আগেই সরাসরি খারিজ করে দেয় নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাঁর কথায়,“আমরা ওই মন্তব্যগুলি দেখেছি। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ধারাবাহিক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তির জন্য দুই পক্ষই একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছিল।”তবু এমন মন্তব্য করা হচ্ছে, যা কূটনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেই মনে করছে ভারত।

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর যে দেশগুলি দ্রুত বাণিজ্যচুক্তিতে আগ্রহ দেখিয়েছিল, ভারত তাদের অন্যতম। গত বছর একাধিক দফায় আলোচনাও হয়। তবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার কারণে ভারতের বহু পণ্যের উপর আমেরিকা অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যার ফলে মোট শুল্কের হার প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছয়। এই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারই দিল্লির কাছে চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল। দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও সেই জট খুলেনি, এবং শেষ পর্যন্ত চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি।

এই প্রেক্ষাপটে পীযূষ গয়ালের বক্তব্য স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—ভারত কোনও ‘একটি ফোন কল’ বা বিদেশি চাপের তত্ত্বে বিশ্বাসী নয়। জাতীয় স্বার্থ, ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি ও সংযত আলোচনাই ভারতের বাণিজ্যনীতির মূল ভিত্তি।