Bengali migrant worker attacked in Odisha:বাংলায় কথা বলাই ‘অপরাধ’? ওড়িশায় নির্যাতনের শিকার হুগলির শ্রমিক!

রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:ওড়িশায় ফের লাঞ্ছনার শিকার হলেন হুগলির গোঘাটের যুবক রাজা আলি। জীবিকার তাগিদে প্রায় আট মাস আগে কটকে পাথর নির্মাণের কাজে যুক্ত হন তিনি। কিন্তু সেখানে স্থানীয়দের হুমকি, মারধর ও অর্থ লুটের শিকার হন রাজা, শুধু তাই নয়—ভাষাগত বৈষম্যের কারণে তাঁর ওপর চরম অবিচার চালানো হয়। অভিযোগ, বাংলায় কথা বলার কারণে (Bengali migrant worker attacked in Odisha) স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতী তাঁকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহ করে মারধর করেন এবং ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করেন।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/11/jadavpur-shubendu-protest-march-tmc-reaction/

রাজার কথায়, “বাংলায় কথা বলাই যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আমাকে আতঙ্কিত করতে সবরকম চেষ্টা করা হয়েছিল। হুমকি, মারধর আর উপার্জিত অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া—সবই সহ্য করতে হয়েছে।” তিনি জানান, হামলাকারীরা তাঁর ভাড়া বাসার দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে বেধড়ক মারধর চালায় এবং আট মাসের কঠোর পরিশ্রমে উপার্জিত প্রায় ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ভয়ের চোটে তিনি রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে-চুরিয়ে কটক থেকে বাংলায় ফিরে আসেন।

রাজার গ্রামের অবস্থা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও উদ্বেগজনক। গ্রামের প্রায় ১৭০টি পরিবারের অধিকাংশ পুরুষই ভিন্‌রাজ্যে কাজ করেন। যদিও গ্রামটি মূলত বিজেপি-সমর্থিত এলাকা, তবু এক বাঙালি শ্রমিকের উপর এমন নির্যাতনের (Bengali migrant worker attacked in Odisha)  খবরে প্রতিবেশীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttps://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

রাজনৈতিক চাপানউতরও শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপিকে নিশানায় নিয়েছে এবং রাজা আলি ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে, “এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।”

রাজার অসুস্থ বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ছেলেই ছিল পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। ওর কষ্টার্জিত টাকাও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন সংসার চলবে কীভাবে, বুঝতে পারছি না।”

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ২২ জানুয়ারি হুগলিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা রয়েছে। তারা ওই সভায় নিজেদের দুরবস্থা এবং অসহায়তার কথা তৃণমূল নেতৃত্বের সামনে তুলে ধরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

এই ঘটনাটি শুধুই একটি ব্যক্তিগত নির্যাতন নয়, বরং ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে হওয়া বৈষম্য এবং দেশের ভিন্‌রাজ্যে কাজ করা শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।