নিউজ পোল ব্যুরো:রবিবার যাদবপুর কার্যত রাজনীতির উত্তাল মঞ্চে পরিণত হলো। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari political rally) নেতৃত্বে যাদবপুর এইটবি বাসস্ট্যান্ড থেকে দেশপ্রিয় পার্ক পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ মিছিল ছিল নিছক কর্মসূচি নয়; এটি শাসক-বিরোধী সংঘাতের প্রতীকী প্রকাশ।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/11/somnath-temple-modi-history-unity/
মিছিলের পটভূমি রয়েছে ইডির অভিযান ও আই-প্যাক কর্ণধারের বাসভবন ও অফিসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক উপস্থিতি। জানা যায়, সেই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ নথি সঙ্গে নিয়ে বের হওয়ার অভিযোগে বিরোধীরা শাসকদলের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ জানিয়েছে। শুভেন্দু সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “সেদিন সরকারের পক্ষ থেকে যা ঘটেছে, তা ছিল নিছক এক প্রহসন। আজকের মিছিল সেই নাটকের পাল্টা জবাব।” তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি তদন্তাধীন নথি সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন।”
শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari political rally) মিছিলের সময় রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণীর সুরেও মন্তব্য করেন। ভবানীপুর প্রসঙ্গ তুলে তিনি ঘোষণা করেন, “ভবানীপুরে হারিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বানানোর পরেই আমি থামব।” এই মন্তব্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়; এটি শাসকদলের নির্বাচনী দুর্গে সরাসরি চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, শাসকদল যতই বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করতে চেষ্টা করুক না কেন, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও প্রতিরোধ আরও তীব্র হবে।
তবে, এই মিছিল ও শুভেন্দুর বক্তব্যের পাল্টা কটাক্ষ করতে পিছপা হয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “দাঁড় কাক ময়ূরের পালক পরে নিলেই ময়ূর হয়ে যায় না। অনুকরণে অভ্যাস তৈরি হয়, কিন্তু নেতৃত্ব তৈরি হয় না। দিনের শেষে দাঁড় কাক কাকই থাকে; ইতিহাস তাকে ময়ূর হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।” তাঁর এই মন্তব্য স্পষ্টভাবে বোঝাচ্ছে, শুভেন্দুর প্রতীকী অনুকরণ যতই থাকুক, রাজনৈতিক উচ্চতা ও জনসমর্থনের নিরিখে তিনি আজও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াতেই রয়েছেন।
অরূপ আরও উল্লেখ করেন, যাদবপুর থেকে মিছিল করা কিংবা ২১ জুলাইয়ের মতো প্রতীকী তারিখে সভা ডাকার প্রবণতা—সবই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুকরণ মাত্র। তৃণমূলের ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, অটল আত্মবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণীয় ব্যাখ্যা, বিজেপির অভিযোগের পাল্টা শক্তিশালী জবাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
যাদবপুরের এই মিছিল কেবল একটি প্রতিবাদ নয়; এটি রাজ্য রাজনীতির গভীরে জমে থাকা অবিশ্বাস, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং প্রতীকী রাজনীতির লড়াইয়ের প্রতিফলন। একদিকে বিজেপি শাসকদলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনৈতিকতার অভিযোগ ও রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস আত্মবিশ্বাসী ব্যঙ্গের মাধ্যমে নেতৃত্বের প্রশ্নে অটল অবস্থান রাখছে। এই দুই মেরুর সংঘাতই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান আরও তীক্ষ্ণ, সংঘর্ষময় এবং প্রতীকী রাজনীতির উত্তাপপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে চলেছে।
