নিউজ পোল ব্যুরো: ভারতের গর্ব, ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং অলিম্পিক পদকজয়ী বক্সার মেরি কম (Mary Kom) সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময়ের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়েছেন তিনি। পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবনের ভাঙন, আর্থিক বিপর্যয় এবং লাগাতার মানসিক চাপ তাকে কার্যত ভেঙে দিয়েছিল। ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, অলিম্পিক ব্রোঞ্জজয়ী এই তারকা ক্রীড়াবিদ বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়া ও কিছু সংবাদমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে চলা কুৎসা আর সহ্য করা সম্ভব হচ্ছিল না বলেই মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন।
মেরি কম জানিয়েছেন যে, তার স্বামী করুং ওনলার কম (Karung Onkholer Kom)-এর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরেই চূড়ান্ত হয়েছিল। ২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমসের আগে একটি গুরুতর চোটের কারণে তিনি যখন বেশ কয়েক মাস শয্যাশায়ী ছিলেন, তখনই তিনি প্রথম বুঝতে পারেন যে তার বিশ্বাসের জায়গাটি টলে গেছে। তার কথায়, “আমি এতদিন এক মিথ্যার মধ্যে বাস করছিলাম।” পারস্পরিক সম্মতিতে এই বিচ্ছেদ হলেও মেরি কম জানান যে, তিনি বিষয়টি ব্যক্তিগত রাখতে চেয়েছিলেন। এই সাক্ষাৎকারে মেরি এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন। তার অজান্তেই তার কষ্টার্জিত অর্থে কেনা জমি এবং সম্পত্তি তার স্বামীর নামে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তার সম্পত্তি বন্ধক রেখে কোটি কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে। আর্থিক এই দুর্নীতির কারণে তিনি প্রায় দেউলিয়া হওয়ার পথে বসেছিলেন এবং মণিপুরে তার কিছু জমি স্থানীয় গোষ্ঠী দ্বারা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
মেরি কম দুঃখের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, গত কয়েক মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে অত্যন্ত কুৎসিত রটনা রটানো হচ্ছিল। কেউ তাঁকে ‘লোভী’ বলছিল, আবার কেউ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগ আনছিল। তার দীর্ঘদিনের নীরবতাকে অনেকে দুর্বলতা ভেবে ভুল করেছে, তাই তিনি সত্য প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন। চার সন্তানের মা মেরি কম জানান, ভেঙে পড়ার সময়ও তার সামনে দাঁড়ানোর কারণ ছিল সন্তানদের ভবিষ্যৎ। আইনি পথে না গিয়ে তিনি শুধু একটাই আবেদন জানিয়েছেন—তাকে একা থাকতে দেওয়া হোক, অপপ্রচার বন্ধ হোক। মেরি কম এখন উত্তরপ্রদেশের ফরিদাবাদে বসবাস করছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভেঙে পড়লেও তার শোক করার উপায় নেই, কারণ তাঁর ওপর চারটি সন্তান এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্ব রয়েছে। বর্তমানে তিনি বিজ্ঞাপনী প্রচার এবং অন্যান্য কাজের মাধ্যমে নতুন করে তার আর্থিক ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। বক্সিং রিংয়ের মতো জীবনের লড়াইয়েও হার মানতে নারাজ এই কিংবদন্তি। তার কথায়, “আমার জীবনটা যেন এক দীর্ঘ বক্সিং বাউট।”
