নিউজ পোল ব্যুরো:গুজরাতের ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে ইতিহাস, জাতীয় আত্মসম্মান ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রশ্নে ফের সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi history speech)। রবিবার ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’-এর অন্তর্গত ‘শৌর্য যাত্রা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে ভারতের গৌরবময় ইতিহাসকে আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর মতে, ঔপনিবেশিক মানসিকতার প্রভাবেই ভারতের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের মূল স্রোতকে দুর্বল করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/11/suvendu-adhikari-challenges-mamata-banerjee-purulia-rally/
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের উপর সংঘটিত বহু আক্রমণ, ধ্বংসযজ্ঞ ও নিপীড়নের ঘটনাকে ইতিহাসের পাতায় ইচ্ছাকৃতভাবে হালকা করে দেখানো হয়েছে। পাঠ্যবইয়ে আক্রমণকারীদের হিংসা ও বর্বরতাকে কেবল ‘লুটপাট’ শব্দে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, অথচ সেই সময়ের হত্যালীলা, ধর্মীয় ধ্বংস, নিপীড়ন ও সাধারণ মানুষের অসহনীয় যন্ত্রণার যথাযথ উল্লেখ হয়নি। এর ফলে নতুন প্রজন্ম ইতিহাসের পূর্ণ সত্য জানতে পারেনি এবং জাতীয় আত্মপরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi history speech) সোমনাথ মন্দির রক্ষায় যাঁরা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন, তাঁদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তাঁর কথায়, বিশ্বাস ও সভ্যতার রক্ষায় যাঁরা জীবন বাজি রেখেছিলেন, তাঁদের কৃতিত্ব ইতিহাসে প্রাপ্য মর্যাদা পায়নি। এই অবহেলা শুধু অতীতের প্রতিই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিও অন্যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttps://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
স্বাধীনতার পর সোমনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণকে ঘিরে যে বিতর্ক ও বিরোধিতা হয়েছিল, তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সর্দার বল্লভভাই পাটেল ধ্বংসপ্রাপ্ত সোমনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিলে একাংশ তীব্র আপত্তি তোলে। এমনকি ১৯৫১ সালে রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের মন্দির পুনঃপ্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। মোদীর অভিযোগ, যারা তখন এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিল, তারা আজও সক্রিয় রয়েছে—শুধু পদ্ধতি বদলেছে। আগে আক্রমণ হতো অস্ত্র দিয়ে, এখন ষড়যন্ত্র হয় নীরবে, কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন তিনি।
দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভাজনের যে কোনও শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানো সময়ের দাবি। তাঁর মতে, ভারতের গত হাজার বছরের ইতিহাস কেবল অতীতের কাহিনি নয়, আগামী হাজার বছরের পথচলার দিশাও দেয়। সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েই শক্তিশালী, আত্মনির্ভর ও ঐক্যবদ্ধ ভারত গড়ে তুলতে হবে বলে তিনি জোর দেন।
ভাষণের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোমনাথ কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি ভারতের শক্তি, সহিষ্ণুতা, বিশ্বাস ও অটুট সভ্যতার প্রতীক। ১০২৬ সালে মাহমুদ গজনির প্রথম আক্রমণের পর একাধিকবার সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, সাহস ও ঐক্যের জোরে এই মন্দির নতুন করে গড়ে উঠেছে। বারবার ধ্বংসের পরও সোমনাথের পুনর্জন্ম বিশ্বের ইতিহাসে এক বিরল উদাহরণ, যা ভারতের অদম্য আত্মশক্তির সাক্ষ্য বহন করে।
