নিউজ পোল ব্যুরো:পুরুলিয়ার জনসভা থেকে ফের একবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari challenge Mamata Banerjee)। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তাঁর দাবি, ২০১১ সালে পরিবর্তনের আশায় মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতায় এনেছিল, কিন্তু সেই প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবে হয়নি। শুভেন্দুর কথায়, “আসল বদল হবে ২০২৬ সালে। পশ্চিমবঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বেই বিজেপি সরকার গঠন করবে।”
সভা থেকে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। তৃণমূলের দাবি, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং ন্যায্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর পাল্টা জবাবে শুভেন্দু বলেন, রাজ্যের ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম ঢুকিয়ে রেখেছে তৃণমূল, যাঁরা তাদের ভোটব্যাঙ্কের অংশ।
এই প্রসঙ্গেই পুরুলিয়ার মঞ্চ থেকে বড় ভবিষ্যদ্বাণী করেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari challenge Mamata Banerjee)। তাঁর দাবি, “১৪ ফেব্রুয়ারির পর তৃণমূল বলবে তারা আর ভোটে লড়বে না।” কারণ হিসেবে তিনি জানান, ওই দিন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হলে সেখানে কোনও মৃত, ভুয়ো, রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি মুসলমান ভোটারের নাম থাকবে না। তাঁর কথায়, “স্বচ্ছ ভোটার তালিকাতেই ভোট হবে, আর বাংলায় পরিবর্তন হবেই।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttps://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
বিজেপির আরও দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার ফলে রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি পর্যন্ত নাম বাদ যেতে পারে, যাদের অধিকাংশই অনুপ্রবেশকারী। যদিও এই তালিকায় ঠিক কতজন রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি রয়েছেন, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ হয়নি। এই ইস্যুতেই কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই প্রশ্ন তুলেছেন।
এর পাশাপাশি অতীতের ভোট প্রক্রিয়া নিয়েও তোপ দাগেন শুভেন্দু। কোভিডের তৃতীয় ঢেউয়ের সময় সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিংয়ের অজুহাতে ভোটারদের ইভিএম থেকে দূরে বসিয়ে ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলেন তিনি। চ্যালেঞ্জের সুরে বলেন, “আমরা জাতীয় দল, আমরা সামনে বসব। তৃণমূল আঞ্চলিক দল, ওদের পিছনে বসাব।”
অতীতের ভোটের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে শুভেন্দুর সাফ বক্তব্য, “২১ আর ২৪ সালের ভোট থেকে বুঝেছি কীভাবে ভোট চুরি আটকাতে হয়। এবার সর্বশক্তি দিয়ে নামছি।”
