নিউজ পোল ব্যুরো:আধুনিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রচারের ভাষা ও মাধ্যম দ্রুত রূপান্তরিত হয়েছে। একসময়ের আবেগঘন দেওয়াল লিখন এখন ইতিহাসের পাতায় স্থান নিয়েছে; তার পরিবর্তে ডিজিটাল পরিসর—বিশেষত সোশ্যাল মিডিয়া (Election Commission social media rules)—পরিণত হয়েছে নির্বাচনী প্রচারের প্রধানতম প্ল্যাটফর্মে। তবে এই প্রযুক্তিনির্ভর প্রচারযন্ত্রের অন্তরালে ক্রমবর্ধমান ভুয়ো তথ্য, বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট এবং প্রভাবিত জনমত গঠনের অপচেষ্টা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য এক গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি একাধিক কঠোর ও সুসংহত নির্দেশিকা জারি করে ডিজিটাল প্রচারের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে কোনো বেআইনি, বিভ্রান্তিকর বা নির্বাচনী আচরণবিধি-বিরোধী কনটেন্ট চিহ্নিত হওয়ার পর সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টার মধ্যে তা অপসারণ করতে হবে। এই সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রত্যেক রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম মেধা (AI)-এর ব্যবহারকে কেন্দ্র করে কমিশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুয়ো ছবি ও ভিডিও তৈরি করে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করা বা জনমত প্রভাবিত করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিশন (Election Commission social media rules) নির্দেশ দিয়েছে যে, কোনো প্রচারসামগ্রী যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে নির্মিত হয়, তবে সেখানে স্পষ্টভাবে ‘AI Generated’ বা ‘কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট’ বলে উল্লেখ করতে হবে, যাতে ভোটাররা তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে সচেতন থাকতে পারেন।
কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ নির্বাচনী সূচি ঘোষণার পর থেকেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিবিড় নজরদারি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১১ হাজারেরও বেশি বেআইনি বা বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা কমিশনের সক্রিয় মনোভাবেরই প্রতিফলন।
একইসঙ্গে জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ১২৬ নম্বর ধারার কঠোর প্রয়োগের বিষয়টিও পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধারার আওতায় ভোটগ্রহণের পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা—অর্থাৎ ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’-এ—টেলিভিশন, রেডিও কিংবা সোশ্যাল মিডিয়াসহ কোনো মাধ্যমেই নির্বাচনী প্রচার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনের এই উদ্যোগ একটি সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে নিয়ন্ত্রণ ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
