ভাইপোর ডানা ছাঁটলেন পিসি! জেলা থেকে অভিষেক-পন্থীদের ঘাড়ধাক্কা, তৃণমূলে কি তবে পুরোপুরি শেষ ‘অভিষেক-তন্ত্র’?

breakingnews রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: বেশ কিছুদিন ধরেই দলের ভেতরে পুরনো বনাম নতুনের যে ঠাণ্ডা লড়াই চলছিল, রবিবার যেন তাতে সিলমোহর পড়ে গেল। রাজ্যজুড়ে একাধিক জেলার সভাপতি এবং চেয়ারম্যান পদের নাম ঘোষণা হতেই স্পষ্ট হয়ে গেল যে, অভিষেক পন্থী নেতাদের ডানা পুরোপুরি ছেঁটে ফেলা হয়েছে। এতদিন ধরে যাঁরা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ বা জেলা সামলাচ্ছিলেন, তাঁদের সরিয়ে পুরনো ও বিশ্বস্ত মুখের ওপরেই ফের ভরসা রাখলেন মমতা।একাংশের দাবি, সংগঠনের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।

এই নতুন তালিকায় সবথেকে বড় চমক লেগেছে পুরনো নেতাদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে। কুণাল ঘোষ, রত্না সূর, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং শুভাশিস চক্রবর্তীদের মতো ঝানু রাজনীতিকদের আবার বড়সড় দায়িত্ব দিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, হুগলিতে অসিত মজুমদার, পূর্ব বর্ধমানে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়দের হাতে দেওয়া হয়েছে জেলার রাশ। ডানা মেলেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, পুলক রায় ও অজিত মাইতিরাও। এমনকি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) মুখ্য উপদেষ্টা পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে জয়া দত্তকে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। অভিষেকের গড় হিসেবে পরিচিত এই জেলায় আগে দুটি আলাদা সাংগঠনিক ভাগ ছিল। এবার সেই বিভাজন পুরোপুরি তুলে দিয়ে গোটা জেলার দায়িত্ব একচ্ছত্রভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে আদি নেতা শুভাশিস চক্রবর্তীর হাতে। দলের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পরিষ্কার জানিয়েছেন, শুভাশিস চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন করছেন, তাই তিনি একাই পুরোটা সামলে নিতে পারবেন। দলের অন্দরে ক্ষমতা হারানোর এই চরম অপমানের পর ক্ষুব্ধ অভিষেক এবার কী দল চালাবেন, নাকি ‘মমতা-তন্ত্রের’ সামনে মাথা নত করেই থাকতে হবে যুবরাজকে, সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন!এই পদক্ষেপের পর রাজনৈতিক মহলে স্পষ্ট বার্তা চলে গেল— তৃণমূলে এখন শেষ কথা মমতাই, যুবরাজের ক্ষমতা আপাতত ব্যাকফুটে।