নিউজপোল ব্যুরো: সময় যত গড়াচ্ছে, স্বরূপ বিশ্বাসের আসল রূপ ততই প্রকাশ্যে আসছে। টলিউডে দাদাগিরি চালানোর পাশাপাশি এবার রাস্তার ধারের এক সামান্য খাবারের দোকানদারের কাছ থেকেও বিপুল টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ছক সামনে এলো। এছাড়াও কলকাতার রিজেন্ট পার্ক এলাকার এক মহিলা নিউ আলিপুর থানায় স্বরূপের বিরুদ্ধে মারাত্মক সব অভিযোগ এনেছেন।
অভিযোগকারী মহিলার দাবি, নিউ আলিপুর এলাকায় রাস্তার ধারে একটি খাবারের স্টল খোলার অনুমতি পেতে গেলে তাঁর কাছে নগদ ৮০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন স্বরূপ। অভিযোগের তির এখানেই থেমে থাকেনি। ওই মহিলা জানিয়েছেন, বছর দেড়েক আগে তিনি যখন ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর জুঁই বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করেন, তখন জুঁই সাফ জানিয়ে দেন যে এই অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। জুঁই নিজেই ওই মহিলাকে তাঁর স্বামী স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন, কারণ কাউন্সিলর না হলেও পর্দার আড়ালে থেকে পুরো ওয়ার্ডের রিমোট কন্ট্রোল নাকি স্বরূপেরই হাতে ছিল।
জুঁইয়ের কথা মতো মহিলা যখন স্বরূপের মুখোমুখি হন, তখন ৮০ লক্ষ টাকার পাশাপাশি সুরুচি সংঘের ক্লাবে তাঁকে একা দেখা করার জন্য কুপ্রস্তাবও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তৎকালীন শাসকদলের এই নেতার আসল মনোভাব বুঝতে পেরে ওই মহিলা আর পা বাড়াননি। অবশেষে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর, ভয়ডরহীন ভাবে গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি নিউ আলিপুর থানায় গিয়ে এফআইআর দায়ের করেন তিনি। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পর জানিয়েছে, স্বরূপের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ সম্পূর্ণ গ্রেফতারযোগ্য অপরাধ। রাজনৈতিক মহলের মতে, কয়লা, বালি ও মাটি চুরির মামলার পর, এবার কলকাতায় অরূপ-স্বরূপের এই সিন্ডিকেট রাজ সামনে আসা তৃণমূলের জন্য এক মস্ত বড় ধাক্কা। সব মিলিয়ে, টলিউডের দাদাগিরি থেকে খাস কলকাতার রাস্তা— স্বরূপ বিশ্বাসের দুর্নীতির সিন্ডিকেট এখন পুরোপুরি জলের মতো পরিষ্কার! আইন আর পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে স্বরূপ এবার কোন গলিতে লুকোবেন, নাকি এই বিস্ফোরক দুর্নীতির জোরেই খুব শীঘ্রই শ্রীঘরে কাটবে তাঁর রাত,সবার নজর কখন সেদিকেই !
