নিউজ পোল ব্যুরো:দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে (Baruipur) ১১ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার গোটা এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিখোঁজ নাবালিকার দেহ স্থানীয় একটি পুকুর থেকে উদ্ধারের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়। একইসঙ্গে কুলপি রোড অবরোধ, পুলিশ ক্যাম্পে ভাঙচুর এবং শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গোটা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপ ও নির্যাতিতার পরিবারের প্রতি প্রশাসনিক সহায়তার আশ্বাসের পর পরিস্থিতি আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে।
আরও পড়ুন:Prawn Recipe: একঘেয়ে চিংড়ির ভাপা বা মালাইকারি খেয়ে ক্লান্ত? হিং চিংড়ি বানিয়ে ফেলুন আজই
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গণপিটুনিতে নিহত যুবকের নাম ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬)। স্থানীয়দের অভিযোগ, নাবালিকার উপর সংঘটিত নৃশংস অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ডে সে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। রবিবার সকালে অভিযুক্তকে এলাকায় দেখতে পেয়েই উত্তেজিত জনতা তাকে ধরে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের দাবি, এই জঘন্য অপরাধে মোট চার থেকে পাঁচজন জড়িত রয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করে বারুইপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হলেও, বাকি অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মৃত নাবালিকার দেহ কুলপি রোডে রেখে পথ অবরোধ শুরু হয়। পুলিশ অবরোধ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।
পরিস্থিতির উত্তাপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রেলপথেও। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে দীর্ঘক্ষণ ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের চরম গাফিলতি ও সময়োচিত পদক্ষেপের অভাবেই এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে। তাঁদের দাবি, শনিবার রাতে অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ যথাযথ তৎপরতা দেখালে হয়তো নাবালিকার প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব ছিল।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল থেকেই নিখোঁজ ছিল ওই ১১ বছরের নাবালিকা। পরিবারের অভিযোগ, চার থেকে পাঁচজন যুবক তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। রাতভর তল্লাশির পর রবিবার সকালে এলাকার একটি পুকুর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, নাবালিকাকে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর সমগ্র বারুইপুর (Baruipur) এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশ চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নির্যাতিতার পরিবারকে কলকাতার ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সেদিন পরিবারের বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস ও হস্তক্ষেপের পর বিক্ষোভকারীরা শেষ পর্যন্ত পথ ও রেল অবরোধ প্রত্যাহার করেন। যদিও এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোটা এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর প্রশাসন নিবিড় নজর রাখছে।
