Mamata Banerjee:বারুইপুরে যাওয়ার আগেই পুলিশি ঘেরাটোপ! ‘আমাকে নিয়ে এত ভয় কেন? নজরবন্দি করলে নোটিফিকেশন দিন’, সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার আবহের মধ্যেই ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা ছিল তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। তবে তিনি বাড়ি থেকে রওনা দেওয়ার আগেই তাঁর বাসভবন ও সংলগ্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ফলে নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করতে বাধ্য হন তিনি। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:Trinamool Congress:জ্ঞানেশ কুমারের রায়ে নির্ধারিত হবে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ, সোমবার কমিশনে দুই শিবিরের নথি পেশ!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বারুইপুরের ঘটনাটি জানার পর থেকেই তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে ভগবানপুর, পটাশপুর, কোচবিহার, দুর্গাপুর, বেহালা, দিনহাটা, পানিহাটিসহ রাজ্যের একাধিক প্রান্তে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই বারুইপুরের নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক এমন ঘটনার পর মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে বলেই তাঁর অভিমত।

প্রশাসনের পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণভাবে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেই তিনি একাই যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বাড়ির সামনে থেকে শুরু করে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় এক হাজার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। তাঁর কথায়, সিআরপিএফের পাশাপাশি দাঙ্গা দমন, ডাকাত দমন এবং অন্যান্য বিশেষ বাহিনীকেও সেখানে রাখা হয়েছিল। যদিও প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গৃহবন্দি’ করার কথা জানানো হয়নি, তবুও কার্যত তাঁকে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে বলেই তাঁর অভিযোগ।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এমন কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যে তাঁর বাসভবনের সামনে রুট মার্চ করতে হল। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি না থাকা সত্ত্বেও এত বিপুল পুলিশ মোতায়েনের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তাঁরা কোনও অপরাধী নন; বরং অতীতে যখনই কোথাও সাধারণ মানুষ বিপদের মুখে পড়েছেন, তখনই তিনি প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেই কারণেই বারুইপুরেও নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে চেয়েছিলেন।

নাম না করেই বর্তমান প্রশাসনকে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, তাঁকে কেউ রাজনৈতিকভাবে সমর্থন করতেই পারেন, আবার বিরোধিতাও করতে পারেন। কিন্তু তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত প্রত্যাহার করা হয়েছে, তিনি একাই চলাফেরা করেন। তা সত্ত্বেও তাঁকে বাইরে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্ন তিনি তোলেন। যদি সত্যিই তাঁকে নজরবন্দি করে রাখা হয়ে থাকে, তবে তার লিখিত নির্দেশ বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করারও দাবি জানান তিনি। অন্যথায় তাঁর পাড়াজুড়ে পুলিশি রুট মার্চের প্রয়োজনীয়তা কোথায়, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

সংবিধানের মৌলিক অধিকারের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, অবাধ চলাচলের অধিকার এবং জীবনের মৌলিক অধিকারের মতো সাংবিধানিক নিশ্চয়তাগুলি ক্রমশ খর্ব করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক বৈষম্যের অভিযোগ তুলে দাবি করেন, শাসকদলের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে মিছিল-মিটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হলেও তাঁদের ক্ষেত্রে প্রশাসন ভিন্ন আচরণ করছে। তাঁর কথায়, প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসকেই রাজনৈতিকভাবে ভয় পাওয়া হচ্ছে, আর সেই কারণেই তাঁদের কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।