আজ থেকেই রাজ্যজুড়ে কড়া ‘গুন্ডা দমন আইন’ লাগু হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু প্রথম দিনেই হাইকোর্টে দায়ের হলো মামলা।

breakingnews আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: রাজ্যে আজ সোমবার থেকেই চালু হওয়ার কথা ছিল কড়া ‘গুন্ডা দমন আইন’। কিন্তু প্রথম দিনেই এই আইন বড়সড় আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়ল। নতুন এই আইনের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় সোমবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা দায়ের করার অনুমতি চান। আদালত মামলা করার অনুমতি দিয়েছে এবং জানিয়েছে যে, খুব তাড়াতাড়ি এর শুনানি হবে।

গত শুক্রবারই বহরমপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জোর গলায় ঘোষণা করেছিলেন যে, বিধানসভায় পাস হওয়া বিলে রাজ্যপাল সই করে দিয়েছেন। তাই আজ থেকেই পুরো রাজ্যে এই কড়া আইন চালু হয়ে যাবে। গত ২৯ জুন বিধানসভায় পাস হওয়া এই আইনের আসল নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। কিন্তু আইনটি চালু হতে না হতেই তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হলো হাইকোর্টের দরজায়।

বিরোধীদের মূল আপত্তি হলো এই আইনের বিশেষ কিছু নিয়ম নিয়ে। নতুন আইন অনুযায়ী, পুলিশ চাইলে যে কোনও সন্দেহভাজন অপরাধীকে সরাসরি গ্রেফতার করতে পারবে এবং আদালতের বিচার ছাড়াই ১ বছর বা ১২ মাস পর্যন্ত আটকে রাখতে পারবে। সমাজবিরোধী কাজের সংজ্ঞায় অনেক কিছু জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন—সাধারণ মানুষের মনে ভয় বা আতঙ্ক তৈরি করা, কিংবা সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার মতো ঘটনা ঘটলেও এই ধারায় গ্রেফতার করা যাবে।

যদিও নতুন বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং একাধিক মন্ত্রী বিধানসভাতেই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই আইন কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না। রাজ্যের সাধারণ মানুষকে গুন্ডামুক্ত পরিবেশ দেওয়া এবং সুশাসন বজায় রাখাই এই আইনের আসল লক্ষ্য।