নিউজ পোল ব্যুরো:পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের (Bangladeshi Aadhaar Voter ID Allegation) অভিযোগ ঘিরে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের রনঘাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে এনে তাঁদের জন্য বেআইনিভাবে ভোটার পরিচয়পত্র, আধার ও পাসপোর্ট তৈরির ব্যবস্থা করার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই বাগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বিজেপির দাবি, রনঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩৯ ও ৪০ নম্বর পার্ট এলাকার বাসিন্দা কামাল মণ্ডল, মাসুদ মণ্ডল, আজগর মণ্ডল এবং ছাড়ারা তরফদার-সহ চারজনকে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে (Bangladeshi Aadhaar Voter ID Allegation) ভারতে নিয়ে আসেন রনঘাট গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী তথা প্রাক্তন উপপ্রধান সম্রাট মণ্ডল। এরপর ভুয়ো নথির সাহায্যে তাঁদের ভোটার পরিচয়পত্র, আধার ও পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়া হয়। বিজেপির অভিযোগ, ওই নথির ভিত্তিতে তাঁদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ার পিছনে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের যোগ থাকতে পারে বলেও দাবি বিজেপির।
ঘটনায় বাগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি কর্মী সমর বিশ্বাস। বাগদা ১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি দিবাকর তরফদার বলেন, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছেন। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সম্রাট মণ্ডল। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল তাঁর পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করারও আগে। ফলে তাঁদের পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। তাঁরা কোথায় কর্মরত, সে বিষয়েও তাঁর কোনও ধারণা নেই বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (SIR) প্রক্রিয়াতেও রয়েছে এবং পুলিশি তদন্তে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করবেন।
এদিকে অভিযুক্তদের অন্যতম কামাল মণ্ডলের মা-ও সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তাঁদের পরিবার জন্মসূত্রেই ভারতের বাসিন্দা। প্রায় ২৫ বছর আগে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে এবং দীর্ঘদিন তাঁরা দিল্লিতে বসবাস করেছেন। তাঁদের বাংলাদেশি বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেই দাবি তাঁর।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
অভিযোগ ও পাল্টা দাবির আবহে ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা সরকারি ভাবে প্রমাণিত হয়নি। বাগদা থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সমস্ত তথ্য ও নথি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
