নিউজ পোল ব্যুরো:তৃণমূল কংগ্রেসের ‘আসল’ পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল আলিপুর আদালত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবির নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী—কোন পক্ষই প্রকৃত তৃণমূল, সেই বিতর্কে আদালতের সাম্প্রতিক রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আদালতের নির্দেশের ব্যাখ্যা তুলে ধরে রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) দাবি করেন, আদালত অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটিকেই একমাত্র আইনগত স্বীকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি হাতে পেলেই তা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়ে নিজেদের দাবিকে আরও জোরদার করা হবে।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/07/12/dilip-ghosh-message-bjp-workers-rajya-sabha-ticket-row/
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিভাজন ক্রমশ প্রকট হয়েছে। একদিকে কালীঘাটকেন্দ্রিক নেতৃত্বের উপর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, অন্যদিকে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন সংগঠনের দিকে একের পর এক প্রাক্তন ও বর্তমান নেতা-নেত্রীর ঝোঁক স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ কর্মীদের একাংশের মধ্যে প্রবল বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষিতেই দলের প্রকৃত সাংগঠনিক ও আইনগত পরিচয় নির্ধারণের দাবিতে আলিপুর আদালতের দ্বারস্থ হন কয়েকজন কর্মী।
সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) দাবি করেন, আদালতের রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে গত ২২ জুন অনুষ্ঠিত জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে গঠিত কমিটিই একমাত্র বৈধ সাংগঠনিক কাঠামো। তাঁর বক্তব্য, ওই কমিটির বাইরে অন্য কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি বা কমিটির সদস্য হিসেবে দাবি করলে তা আইনসঙ্গত হবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে দলীয় কর্মীদেরও সেই ধরনের দাবি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিন আদালতের নথি প্রদর্শন করে ঋতব্রত আরও দাবি করেন, দলীয় কার্যালয়, সাংগঠনিক সম্পত্তি এবং তহবিলের উপরও আইনগত নিয়ন্ত্রণ অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন কমিটিরই রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ওই কমিটির অনুমোদন ব্যতীত কেউ অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নামে কোনও সাংগঠনিক কার্যকলাপ পরিচালনা করতে পারবেন না। এমনকি কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকার তৃণমূল ভবন-সহ দলীয় কার্যালয় ব্যবহারেও একই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য বলে তিনি দাবি করেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
রায়কে স্বাগত জানিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আদালত তাঁদের দাবিকেই কার্যত স্বীকৃতি দিয়েছে। দলীয় নাম, প্রতীকী পরিচয়, তহবিল ও সাংগঠনিক পরিকাঠামো ব্যবহারের অধিকার কেবল তাঁদের কমিটির হাতেই ন্যস্ত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি জোরপূর্বক দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে বা নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আলিপুর আদালতের এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষত কালীঘাট শিবির এই রায়ের প্রেক্ষিতে কী আইনি বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
