নিউজ পোল ব্যুরো:বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে একের পর এক পরিবর্তন ঘিরে যখন বিতর্ক তুঙ্গে, তখন এবার নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস। প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা কক্ষ গেরুয়া রঙে রাঙানো এবং সেখানে ভারত মাতার প্রতিকৃতি স্থাপনকে ঘিরে শিল্পী ও নাট্যজগতের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বাংলার অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে মতাদর্শগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে, যা শিল্প-সংস্কৃতির স্বাধীন চরিত্রের পরিপন্থী। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শিল্পী ও নাট্যব্যক্তিত্বদের একাংশ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠান। বিষয়টি সামনে আসতেই দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে দেন শমীক।
আরও পড়ুন:Ritabrata Banerjee:’আদালতই বলে দিয়েছে, আমরাই আসল তৃণমূল’, দাবি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের!
শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) জানান, শিল্প-সংস্কৃতির জগতে কোনও ধরনের রাজনৈতিক দখলদারি বা মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষে বিজেপি নয়। তাঁর কথায়, দলের কয়েকজন “অতি উৎসাহী” কর্মী নিজেদের সীমা অতিক্রম করেছেন, তবে দল বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করবে।
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমি চিঠিটি পড়েছি। শিল্প-সংস্কৃতির জগতে কোনও দখলদারির রাজনীতি বিজেপি সমর্থন করে না। কেউ কেউ একটু বেশি বিজেপি হয়ে গিয়েছেন। তাঁদের দলই নিয়ন্ত্রণ করবে।” একইসঙ্গে রসিকতার সুরে তিনি বলেন, “আমার বয়স হয়েছে, চুলও পাতলা হয়ে গেছে। তাই মাথায় ডিম খেতে আমি রাজি নই। এই ধরনের কাজ করতে দেব না।”
তিনি আরও বলেন, অতীতে সরকারপুষ্ট সাংস্কৃতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ থাকলেও সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি বিজেপি করবে না। তাঁর বক্তব্য, “যে পরিবর্তনের জন্য মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করেছে, সেই পরিবর্তনের অর্থ কোনও নতুন একাধিপত্য নয়। যদি আমরাই সেই পথে হাঁটি, তাহলে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
এদিকে, অ্যাকাডেমিতে এই প্রথম এমনভাবে গেরুয়া রং ব্যবহার হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন নাট্যব্যক্তিত্বদের একাংশ। নাট্যব্যক্তিত্ব মেঘনাদ ভট্টাচার্যের অভিযোগ, এতদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষ থিয়েটার চর্চার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোনও দল কখনও অ্যাকাডেমির উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেনি। তাঁর মতে, কনফারেন্স রুমে নিয়মিত রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা শিল্পীদের স্বাধীন কাজের পরিবেশকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
অন্যদিকে নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তীও এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এটি সম্পূর্ণ অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত। গায়ে গেরুয়া বা লাল রং মাখালেই কেউ সেই মতাদর্শের হয়ে যায় না। অতিরিক্ত উৎসাহ থেকেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর সরকারি স্থাপনা, প্রতীক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতার মধ্যেই অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের সূত্রপাত হল।
