নিউজ পোল ব্যুরো:শিবির পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক বার্তা আরও স্পষ্ট করলেন বীরভূমের প্রভাবশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর এবার তাঁর বোলপুরের দলীয় কার্যালয় থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত ছবি। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক ছবি আগের মতোই রাখা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
শনিবার ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের তরফে অনুব্রত মণ্ডলকে বীরভূম জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার পরদিন, রবিবার বোলপুরের নিচুপট্টিতে তাঁর বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথে থাকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিগুলি আর নেই। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি যথাস্থানেই রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, শিবির বদলালেও কি অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক আনুগত্য শুধুই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিই অটুট?
শিবির পরিবর্তনের পর থেকেই দলের সাংগঠনিক দুর্বলতার জন্য আইপ্যাককে দায়ী করে একাধিকবার সরব হয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, আইপ্যাকের সমালোচনার মাধ্যমে তিনি পরোক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিশানা করেছেন। কারণ, তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশলে আইপ্যাককে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেওয়ার উদ্যোগ ছিল অভিষেকের।
এই প্রসঙ্গে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে আমি প্রার্থীদের জিতিয়েছি, তখন আইপ্যাক ছিল না। কী এমন হল যে আমাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল? আমি তৃণমূলকে ভালোবাসি। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে এসেছি। দলের নির্দেশ মেনেই সকলকে সঙ্গে নিয়ে টিম বীরভূম পরিচালিত হবে।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “অভিষেকের ছবি কোনওদিনই আমার চোখে পড়েনি। আমার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকলে নিশ্চয়ই তা সরানো হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার ছবি রয়েছে, সেটি থাকবে। আমি ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়েছি, কিন্তু এখনও আমার বাড়িতে রাজীব গান্ধী ও ইন্দিরা গান্ধীর ছবি রয়েছে। মমতার ছবিও থাকবে।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র কার্যালয়ের সাজসজ্জার পরিবর্তন নয়, বরং তা একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করতে পারে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি অক্ষত রাখার সিদ্ধান্ত আগামী দিনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
