নিউজ পোল ব্যুরো:দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া বীরদের কথা আমরা জানি। কিন্তু এমন কিছু মানুষও ছিলেন, যাঁরা দেশের স্বার্থে নিজের নাম, পরিচয়, এমনকি নিজের জীবনটাকেই বিসর্জন দিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ভারতের কিংবদন্তি গুপ্তচর রবীন্দ্র কৌশিক (Black Tiger Ravindra Kaushik), যিনি পরিচিত ছিলেন ‘ব্ল্যাক টাইগার’ নামে।
আরও পড়ুন:Pulses: ডালের ফেনা তুলে ফেলাই কি বুদ্ধিমানের কাজ? জানুন শরীরের উপর এর প্রভাব
১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগরে জন্ম রবীন্দ্র কৌশিকের। থিয়েটারের প্রতি তাঁর আগ্রহই পরবর্তীতে তাঁকে গুপ্তচরবৃত্তির কঠিন প্রশিক্ষণে বিশেষভাবে সাহায্য করেছিল। মাত্র ২৩ বছর বয়সে দেশের স্বার্থে পাকিস্তানে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন পরিচয়ে জীবন শুরু করেন তিনি। উর্দু ভাষা ও পাকিস্তানি সংস্কৃতি আয়ত্ত করে ১৯৭৫ সালে ‘নবী আহমেদ শাকির’ পরিচয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেন রবীন্দ্র।
করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনা করে এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিলিটারি অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টে চাকরি নেন। হিসাবরক্ষকের দায়িত্বে থাকার সুবাদে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাঁর নাগালে আসে। অত্যন্ত গোপনে সেই তথ্য ভারতের কাছে পৌঁছে দিতেন তিনি। তাঁর এই ভূমিকার জন্যই তাঁকে ‘ব্ল্যাক টাইগার’ নামে অভিহিত করা হয়।
পাকিস্তানে থাকাকালীন স্থানীয় এক মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন রবীন্দ্র। তাঁদের একটি সন্তানও হয়। কিন্তু স্ত্রী এবং পরিবারের কাছেও তাঁর আসল পরিচয় ছিল অজানা। দিনের বেলা সাধারণ সরকারি কর্মী, আর গোপনে ভারতের হয়ে কাজ—এই দ্বৈত জীবন বছরের পর বছর চালিয়ে যান তিনি।
১৯৮৩ সালে অন্য এক ভারতীয় গুপ্তচরের ভুলের কারণে তাঁর পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়। পাকিস্তান তাঁকে গ্রেফতার করে। প্রথমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও পরে তা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিবর্তিত হয়। এরপর শিয়ালকোট, কোট লাখপত ও মিয়ানওয়ালি জেলে দীর্ঘ সময় বন্দি থাকতে হয় তাঁকে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
জেল থেকেই পরিবারের কাছে চিঠি লিখতেন রবীন্দ্র। তাঁর মুক্তির জন্য পরিবারের সদস্যরা বারবার ভারত সরকারের দ্বারস্থ হলেও শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। দীর্ঘ বন্দিজীবন ও অসুস্থতার পর ২০০১ সালে মিয়ানওয়ালি জেলেই মৃত্যু হয় এই ভারতীয় গুপ্তচরের।
দেশের জন্য নিজের পরিচয় মুছে শত্রুর দেশে বছরের পর বছর কাটিয়েছিলেন রবীন্দ্র কৌশিক (Black Tiger Ravindra Kaushik)। নিজের দেশের মাটিতে শেষবার পা রাখার পর আর ফিরতে পারেননি। তাঁর জীবন তাই শুধু এক গুপ্তচরের কাহিনি নয়, বরং নিঃশব্দ দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের এক বিরল অধ্যায়।
