নিউজ পোল ব্যুরো: ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওতে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ হিসেবে সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Treaty) স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। হাতে নয় সিন্ধু নদীর জলের উপর নির্ভরকরা পাকিস্তানকে ভাতে মেরেছিল ভারত। নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপে দেশের মানুষের কি কি উপকার হবে তা ব্যাখ্যা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার জনসাধারণের সঙ্গে একটি যোগাযোগ কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনটাই খবর সূত্রের।
সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতে ভারতের উপকার নিয়ে শীর্ষ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন বলেই খবর। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে যেখানে ভবিষ্যতে নদীর জলের ব্যবহার বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে সেই অঞ্চল কতটা উপকারি হবে সেই বিষয়ে জনগণকে জানানো হবে। সূত্র আরও জানিয়েছে যে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, জলসম্পদ মন্ত্রী সিআর পাতিল এবং পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন যাদের এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিন্ধু নদের জলের আরও ভাল ব্যবহার করার জন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নিয়ে কাজ করছে বলেও জানা গিয়েছে। এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে চেনাব নদীকে রবি, বিয়াস এবং শতদ্রু নদী সঙ্গে সংযুক্ত করে ১৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল নির্মাণ। এছাড়াও, সিন্ধু নদকে অন্যান্য নদী ও খালের সাথে সংযুক্ত করার জন্য প্রায় ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই খালের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং রাজস্থানে জল পরিবহন করা সম্ভব হবে।
সূত্রের খবর, সরকার তিন বছরের মধ্যে সিন্ধু নদের জলকে রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগরের সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে। এর জন্য, জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং রাজস্থান জুড়ে থাকা ১৩টি খালকে একীভূত করা হবে। সরকারের মতে, এই উদ্যোগের দলে এই অঞ্চলগুলিতে কেবল জলের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি পাবে না, বরং ভারত সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অতিরিক্ত জল ব্যবহার করতে পারবে। শীর্ষ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা জল সরবরাহের সুবিধাভোগী সকল অঞ্চলের বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছাবেন এবং তাদের আশ্বস্ত করবেন যে বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্ত আগামী বছরগুলিতে বিভিন্ন এলাকায় জলের ঘাটতি এড়াতে সাহায্য করবে। এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য পাঞ্জাব, জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা এবং রাজস্থানে জুড়ে জন সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Treaty) হল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি জল বণ্টন চুক্তি। এটি পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলির (রাবি, বিয়াস, শতদ্রু) নিয়ন্ত্রণ ভারতকে এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলির (সিন্ধু, ঝিলাম, চেনাব) নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানকে দিয়েছিল। পহেলগাঁওতে ধর্ম জেনে হিন্দু পর্যটকদের জঙ্গিরা খুন করার পরেই তা স্থগিত করে দেয় ভারত। তার পর থেকে ভারতকে বহুবার এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। তবে ভারত সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। জঙ্গি হামলার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পাকিস্তানকে সাফ জানিয়েছিলেন জল আর রক্ত একসঙ্গে বইতে পারে না।
