শুভম দে: এজবাস্টনে (England vs India) ইতিহাস? শুভমনের বাজিমাত? নাকি দীপ জ্বেলে যাই? কোনটা বলা যায় রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় বার্মিংহামে টিম ইন্ডিয়ার ৩৩৬ রানের জয়কে? গাব্বার অহঙ্কারও চূর্ণ করেছিল ভারত। এবার এজবাস্টনের ইংরেজ গর্বও খানখান হয়ে গেল শুভমন-আকাশদীপদের দাপটে। যে ইতিহাসকে যেই নামেই ডাকা হোক না কেন জ্বল জ্বল করে জ্বলবে সব বিশেষণই।
আরও পড়ুন: Indian Football: লেটস ফুটবল? উঁ হুঁ লেটস ফাইন্ড এ কোচ ফার্স্ট!
রবিবার খেলা (England vs India) শুরু হলো দেরিতে। বৃষ্টির কারণে বাদ গেলো ১০ ওভারও। চারদিকে চাপা গুঞ্জন — আর একটু আগে ডিক্লেয়ার করা যেত না কি? গম্ভীর একটা ভীতুর ডিম! নে ড্র কর দ্বিতীয় টেস্টটা। কিন্তু শেষমেশ আকাশ উজ্জ্বল হলো। সঙ্গে উজ্জ্বল হলো আরেক ‘আকাশ’। এই আকাশ ভারতের। এই আকাশ বাংলার। শুরুতেই অলি পোপ আর হ্যারি ব্রুককে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে প্রথম ঝটকা দিলেন আকাশদীপ সিং। ইতিহাস আর ভারতের মধ্যে ব্যবধান পাঁচ উইকেট।

তারপরেই শুরু দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ‘বাজবল’ খেলে এই টেস্ট (England vs India) বের করা যাবে না তাই ধ্রুপদী টেস্ট ব্যাটিংয়ে উইকেটে জমে উঠলেন ইংরেজ অধিনায়ক এবং উইকেট রক্ষক। অপেক্ষা গড়ালো মধ্যাহ্নভোজ পর্যন্ত। এমনিতেই ওভার কম তাই মধ্যাহ্নভোজের আগে যত বেশি সম্ভব ওভার করিয়ে নিতে চাইছিলেন শুভমনরা। তাই নিতীশ রেড্ডির হাতে বল দিয়েও ওয়াশিংটন সুন্দরের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক। শেষ বলে সহ-অধিনায়ক পন্থ সুন্দরকে বলেন স্টোকসকে সিঙ্গেল দিয়ে জাদেজার সামনে আনতে। কিন্তু তা না হলেও জাদেজা অতি দ্রুত মাত্র ৯০ সেকেন্ডে ওভার সম্পূর্ণ করলে লাঞ্চের আগে আরও এক ওভার পেয়ে যান সুন্দর। ব্যাস বাজিমাত! লাঞ্চের একদম ঠিক আগের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে ভাঙলো ৭০ রানের জুটি। ব্রিটিশ অধিনায়ক হাবভাব এমন দেখিয়ে ডিআরএস নিলেন যেন বল আগে তাঁর ব্যাটে লেগেছে। কিন্তু রিভিউতে স্পষ্ট হয়ে যায় ইংল্যান্ডের পরাজয়।

এরপর ভারতের জয় (England vs India) ছিল শুধুই সময়ের অপেক্ষা। তাও সেই অপেক্ষার প্রহর বাড়তে থাকে স্মিথের প্রতি আক্রমণে। কিন্তু এদিন আকাশদীপ যেন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। বুমরাহর অবর্তমানে তিনিই যেন ত্রাতা। শুভমনের ভারতের প্রাণ ভোমরা। হবে নাই বা কেন? বঙ্গ ক্রিকেটের আনাচে কানাচে কান পাতল শোনা যাবে বিহারের ছেলের পরিশ্রম আর লড়াইয়ের গল্প। তিনি সেকেন্ড চয়েস নন। প্রথম টেস্ট থেকেই অনায়াসে তাঁর এই দলে জায়গা পাওয়ার কথা। অন্তত ঝুড়ি ঝুড়ি রান বিলানো প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর জায়গায়। হোম অফ ক্রিকেটে বুমরাহ-সিরাজ-আকাশদীপে কপালের ভাঁজ বাড়বে ইংল্যান্ড ব্যাটিং লাইন আপের তা বলাই যায়।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব চ্যানেলের লিংক: https://youtube.com/@thenewspole?si=3FPf_fkhM0P8ItZV
শেষ উইকেটও এল আকাশদীপের হাত থেকেই। তালুবন্দী করে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন তরুণ অধিনায়ক। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন গুরু গম্ভীর। একগুচ্ছ রেকর্ড প্রথম টেস্টেও ছিল। ব্যাটিং নিয়ে সেভাবে কোনও প্রশ্ন ছিল না। প্রশ্ন ছিল বিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার। রো-কো থেকে গিল যে কথা বারবার বলে এসেছেন। দ্বিতীয় টেস্টে সেটাই করে দেখালো যেন ইন ব্লুজ। রেকর্ড গড়ে এজবাস্টন দখল করলেন সেনাপতি গিল। সঙ্গী দুই সুযোগ্য সেনা — সিরাজ আর আকাশদীপ। যে দীপ কোনও নায়ক নন বরং ক্যান্সার আক্রান্ত এক দিদির অন্তরে জ্বলতে থাকা একটুকরো আশার আলো। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিগত দু’মাস ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন আকাশদীপের দিদি। কেরিয়ার সেরা ১০/১৮৭ -র স্পেলটা যিনি সেই দিদিকেই উৎসর্গ করেছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ৫৮৭/১০ (গিল ২৬৯, জাদেজা ৮৯, জয়সওয়াল ৮৭/ শোয়েব বশির ৩/১৬৭) এবং ৪২৭/৬ ডিক্লেয়ার (গিল ১৬১, জাদেজা ৬৯*, পন্থ ৬৫, রাহুল ৫৫/ জশ টাং ২/৯৩)
ইংল্যান্ড ৪০৭/১০ (স্মিথ ১৮৪*, ব্রুক ১৫৮/ সিরাজ ৬/৭০, আকাশদীপ ৪/৮৮) এবং ২৭১/১০ (স্মিথ ৮৮/ আকাশদীপ ৬/৯৯)ভারত জয়ী ৩৩৬ রানে
