শুভম দে: ভারতীয় ফুটবল দলের (Indian Football) কোচের পদে আবেদন চেয়ে এবার বিজ্ঞাপন দিল সর্ব ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। যারপর থেকে সমাজ মাধ্যমে উঠে আসছে নানান ট্রোলিং, নানান কথা। তবে এগুলোর কোনোটাই অবান্তর নয়। একটা দেশের ফুটবল সংস্থা ঠিক কতটা অদূরদর্শী হলে জাতীয় দলের কোচ নির্বাচন করতে এইধরণের বিজ্ঞাপন দেয়?
আরও পড়ুন: Lionel Messi: লিও হওয়া সহজ নয়!
বিজ্ঞাপন দেওয়াই যায়। কিন্তু সাধারণত কোনও জাতীয় দলের কোচ নির্বাচনের আগে থেকেই ঠিক হয়ে থাকে কে হবেন কোচ। নামকে ওয়াস্তে নিয়মমাফিক শুধু আবেদন চাওয়া হয় যেখানে আগে থেকে ঠিক হয়ে থাকা প্রার্থী আবেদন করেন। কিন্তু পুরোপুরি ভাবে আর পাঁচটা চাকরির পরীক্ষার মতো আবেদনের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় না কোনও ক্রীড়া সংস্থার কোচ নির্বাচনে। আর এখানেই ফুটে উঠছে ভারতীয় ফুটবলের (Indian Football) দৈন্যদশার ছবি।
একের পর এক কোচ বদলেছে কিন্তু বদলায়নি ব্লু টাইগারদের ছবি। ঘুরে ফিরে অবসর ভাঙিয়ে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে সুনীল ছেত্রীকে। সুনীলের বিকল্প তৈরি হয়নি! ক্রিকেটে একটা শচীনের পর কোহলি এসেছে, কোহলির পর এসেছে গিল — কিন্তু সেখানেই ফুটবলে সুনীলের কোনও বিকল্প আজ পর্যন্ত পায়নি ভারত। প্রতিভা কি নেই? উত্তরটা হলো আছে। ভুরিভুরি আছে। নেই একটা সিস্টেম। যে সিস্টেমে কোচের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিতে হয় সেই সিস্টেমের থেকে আর কিই বা চাওয়া যেতে পারে?
ঘটা করে প্রতিবছর আইএসএল হয়। কিন্তু তারপরেও হারতে হয় হংকংয়ের কাছে। এই হচ্ছে ভারতীয় ফুটবল (Indian Football)। আর কিছু হলেই গ্রাস রুট, গ্রাস রুট করে রব ওঠে সমাজ মাধ্যমে। বিস্তর লেখালেখিও হয়। কিন্তু কী এই গ্রাস রুট? খায় না মাথায় দেয়? তা সমর্থকরা জানলেও জানেন না কর্তাব্যক্তিরা। তাঁরা শুধু বোঝেন পকেট গরম করতে আর পুরস্কার বিতরণীর সময় ক্যামেরার ফ্রেমে আসতে।
দুয়োরাণীর মতো আচরণ হয় আইলিগের সঙ্গে। আর প্রচারের সব লাইভ লাইট কেড়ে নিয়ে যান আইএসএলের বিদেশিরা। সত্যি এটাই। বিদেশীদের দৌলতে চলা আইএসএল নিয়ে মাতামাতি উন্মাদনা আদেও এ দেশের ফুটবলের (Indian Football) কিছু উন্নতি করছে কি? বয়সভিত্তিক দলের ফুটবলাররা স্বপ্ন দেখেন আইএসএলে খেলার। কিন্তু সেখানে এসে বিদেশিদের ভিড়ে তাদের জায়গা হয় বেঞ্চে আর আন্তর্জাতিক স্তরে মুখ থুবড়ে পড়ে দেশ।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব চ্যানেলের লিংক: https://youtube.com/@thenewspole?si=z04qFjLYr4xekRAX
মানোলো মার্কুয়েজ এগুলো বুঝতে পেরেছিলেন কি না তা ক্রমশ প্রকাশ্য। তাঁর বদলে যার নাম শোনা যাচ্ছে বাংলাকে সন্তোষ চ্যাম্পিয়ন করা সেই সঞ্জয় সেন এসবই জানেন। বিভিন্ন জায়গায় বলছেনও কোচ হলে তাঁর নানান পরিকল্পনার কথা। কিন্তু ঘটনা হচ্ছে শুনবে কে? কল্যাণ চৌবের জায়গায় আসবেন অন্য কেউ। কিন্তু একটা ঘুণ ধরে যাওয়া সিস্টেম কি বদলাতে পারবেন আদৌও কেউ? তাই ক্রমতালিকায় একসময় পিছিয়ে থাকা উজবেকিস্তান বিশ্বকাপ খেলবে দেখে হা হুতাশ করার কিছু নেই বরং ফেসবুকে চলতে থাকুক ‘মাচা-লোটা’ আর বছরান্তে আম্বানির পয়সায় ‘লেটস ফুটবল!’
