নিউজ পোল ব্যুরো: উত্তরের আকাশ মুখ ভার করে কেঁদে চলেছে একটানা। আর সেই কান্নায় ভেসে যাচ্ছে পাহাড়ি জনপদ। হিমালয়ের কোলে ছুটি কাটাতে গিয়ে অনেকে আটকে পড়েছেন বিপদের ফাঁদে। টানা বর্ষণের ধাক্কায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েছে হিমাচল প্রদেশ (Himachal Pradesh) ও উত্তরাখণ্ড। হড়পা বান, ভূমিধস, নদীর ভাঙন— প্রকৃতি যেন তার সমস্ত রোষ উগরে দিচ্ছে পাহাড়ের কোলে।
আরও পড়ুন: Jyoti Malhotra: ভারতীয় এজেন্টদের শনাক্ত করতে জ্যোতিকে ব্যবহার করছিল ISI
গত কয়েকদিনের একটানা বর্ষণে হিমাচল প্রদেশ (Himachal Pradesh) ও উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বিপর্যয়। হিমাচলে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭৮ জনের। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাণ্ডি, যেখানে একাই প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন, এবং এখনও নিখোঁজ অন্তত ৩০ জন। মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বহু ঘরবাড়ি, ভেসে গিয়েছে প্রায় ৩০০ গবাদি পশু।
ভারী বৃষ্টির ফলে নদী-নালার জলস্তর হু-হু করে বাড়ছে। একাধিক এলাকায় রাস্তা ও সেতু ভেঙে পড়ায় যানচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে বহু পর্যটক আটকে পড়েছেন পাহাড়ি গ্রাম ও শহরগুলিতে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামানো হয়েছে জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে (NDRF ও SDRF)। উদ্ধার করা হয়েছে ইতিমধ্যেই চার শতাধিক মানুষকে, খোলা হয়েছে অস্থায়ী ত্রাণশিবির।
মৌসম ভবন থেকে হিমাচল (Himchal Pradesh) ও উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) বিভিন্ন জেলায় জারি করা হয়েছে হলুদ ও কমলা সতর্কতা। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস। ভূমিধস ও আকস্মিক বানের সম্ভাবনায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। জলশক্তি দপ্তর বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে শুরু করেছে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের কাজ। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে চলছে বাড়ি বাড়ি ত্রাণ বিতরণ। এই দুর্যোগ পরিস্থিতি সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মনে আতঙ্ক ছড়ালেও, প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে— বারবার এমন দুর্যোগের মধ্যে পাহাড়ি পর্যটন কতটা নিরাপদ?
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
