নিউজ পোল ব্যুরো: দুর্গাপুজোর (Durga Puja Festival) সময় ঠাকুর দেখা মানেই রাতভর হেঁটে বেড়ানো, বন্ধু-বান্ধব আর আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা, আর সাথে টানা কয়েকদিনের প্যান্ডেল হপিং (Pandal Hopping)। এই উৎসবের আনন্দ যেমন অপরিসীম, তেমনই রয়েছে শরীরের উপর বাড়তি চাপের প্রভাব। বিশেষত পায়ের উপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে। কারণ অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটির ফলে আমাদের পায়ের পাতার নিচে থাকা ফ্যাট প্যাড (Fat Pad) এবং পায়ের পেশিগুলি (Foot Muscles) দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ফলে অনেক সময় গোড়ালির নিচে তীব্র ব্যথা বা পায়ের পেশিতে টান ধরার সমস্যা দেখা দেয়। অনেকেই একে সাধারণ ক্লান্তি মনে করেন, কিন্তু আসলে এর নেপথ্যে রয়েছে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ।
আরও পড়ুন: Reels Addiction : রিলসের নেশা থেকে বাঁচান সন্তানকে: স্ক্রিন টাইম কমানোর সহজ উপায়
ফ্যাট প্যাড মূলত গোড়ালির নিচে থাকে এবং এটি শরীরের প্রাকৃতিক কুশনের (Natural Cushion) মতো কাজ করে। হাঁটার সময় এটি গোড়ালিকে আঘাত থেকে বাঁচায়। কিন্তু যখন আমরা দীর্ঘক্ষণ টানা হাঁটি, বিশেষত পুজোর মতো দিনে, তখন এই ফ্যাট প্যাড অতিরিক্ত চাপ সামলাতে না পেরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এর ফলে গোড়ালিতে Heel Pain তৈরি হয়। অন্যদিকে, আমাদের পায়ের কাফ মাসল (Calf Muscle) এবং পাতার ভেতরের ছোট ছোট পেশিগুলো সাধারণত অত বেশি চাপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে না। ফলে ক্র্যাম্প (Muscle Cramp) বা টান ধরা খুবই স্বাভাবিক। এই সমস্যাগুলি এড়াতে শরীরকে আগে থেকে প্রস্তুত করে নেওয়া জরুরি। কয়েকটি সহজ ব্যায়াম পুজোর আগে রোজ চর্চা করলে এ ধরনের অস্বস্তি অনেকটাই কমানো যায়।

হিল রেইজেস (Heel Raises): সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে গোড়ালি মাটি থেকে তুলতে হবে। শরীরের ভর থাকবে পায়ের আঙুলে। প্রায় পাঁচ সেকেন্ড ধরে রেখে আবার নামাতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ১০০ বার দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে ২০০-৩০০ বার পর্যন্ত বাড়ানো উচিত। এই ব্যায়াম পায়ের কাফ মাসলকে শক্তিশালী করে তোলে এবং ব্যালান্স (Balance) উন্নত করে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
টোওয়েল টান ব্যায়াম (Towel Curl Exercise): মেঝেতে একটি তোয়ালে বা গামছা রেখে পায়ের আঙুল দিয়ে সেটি নিজের দিকে টানতে হবে। এটি পায়ের পাতার ভেতরের পেশিগুলোকে সক্রিয় করে এবং স্ট্যাবিলিটি (Stability) বাড়ায়। প্যান্ডেল হপিংয়ের আগে যদি এই দুই ব্যায়ামকে অভ্যাসে পরিণত করা যায়, তবে দীর্ঘক্ষণ হাঁটার পরও সহজে ক্লান্তি বা ব্যথা গ্রাস করতে পারবে না। ফলে ঠাকুর দেখা, খাওয়াদাওয়া আর জমিয়ে উৎসবের আনন্দ নেওয়া যাবে কোনও ব্যথা বা অস্বস্তি ছাড়াই।
