Gold Price : পুজোর আগে শহরে সোনার দাম আকাশছোঁয়া, কয়েকদিনের মধ্যে ৩ লাখে পৌঁছাতে পারে

কলকাতা ব্যবসা-বাণিজ্য

সঙ্গীতা ঘোড়ুই : ২০২৫ সালে সোনার বাজার (Gold Price in India) আকাশছোঁয়া। ইতিমধ্যেই কলকাতায় ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১ লাখ ২ হাজার টাকারও বেশি ছুঁয়েছে। ২৪ ক্যারেটের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার টাকা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি (Global Economy) ও ভূ-রাজনীতির (Geopolitics) অস্থিরতার কারণে আগামী দিনে সোনার দাম আরও চড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, ভারতীয় বাজারে ১০ গ্রাম সোনার দাম (Gold Price per 10 gram) একসময় ৩ লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

গত চার বছরে সোনার দামের বৃদ্ধি নজিরবিহীন। ২০২১ সালের জানুয়ারির তুলনায় বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১২৬ শতাংশে। অন্য কোনও সম্পদ (Asset Class) এত রিটার্ন দিতে পারেনি। সুইস এশিয়া ক্যাপিটাল (Swiss Asia Capital) জানিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রতি আউন্স সোনার দাম (Gold Price per Ounce) ৮,০০০ মার্কিন ডলার ছুঁতে পারে। যদি তা হয়, ভারতীয় বাজারে সোনার দাম আরও লাফিয়ে বাড়বে। এই ঊর্ধ্বগতির মূল চালিকা শুধু মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন।

আরও পড়ুন:Durga Puja 2025: মহালয়ার সকালে গঙ্গার ঘাটে তর্পণের ঢল, ভিড় সামলাচ্ছে পুলিশ-ড্রোন

শেয়ার বাজার (Stock Market) ও বন্ড (Bond Market) দুর্বল, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো (Central Banks) প্রচুর সোনা কিনছে। ফলে সোনা আবারও ‘নিরাপদ আশ্রয়’ (Safe Haven Asset) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের টানাপোড়েন যা বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি সোনার দিকে আকৃষ্ট করছে।

চিনের (China) কৌশলও বড় ভূমিকা নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডলার (US Dollar) নির্ভরতা কমাতে বেজিং ক্রমাগত সোনা মজুত করছে। বর্তমানে চিনের হাতে রয়েছে ২,৩০০ টন সোনা, লক্ষ্য ৫,০০০ টন সংগ্রহ করা। তুলনায় আমেরিকার কাছে আছে ৮,১৩৩ টন। অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি ডলার তার বৈশ্বিক মুদ্রার মর্যাদা হারায়, তবে সোনা বিকল্প শক্তি হিসেবে উঠবে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

অন্যদিকে, এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে (Gold ETF) বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে। ২০২৫ সালের প্রথম ছ’মাসেই প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার এই খাতে ঢুকেছে। প্রতি বছর খনিগুলো থেকে প্রায় ৩ হাজার টন সোনা উত্তোলন হলেও এর বড় অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কিনে নিচ্ছে, ফলে বাজারে সরবরাহ (Supply) কমে যাচ্ছে এবং দাম আরও দ্রুত বাড়ছে।

তবে সতর্কবার্তাও রয়েছে। ইতিহাস বলছে, অল-টাইম হাই (All Time High) ছোঁয়ার পর প্রায়ই সোনার দাম ১০-২০ শতাংশ কমে আসে। তাই খুচরা বিনিয়োগকারীদের (Retail Investors) জন্য এককালীন বড় বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (Gold SIP), সোভেরেইন গোল্ড বন্ড (SGB) বা ডিজিটাল গোল্ড (Digital Gold)-এর মতো বিকল্প বেছে নেওয়ার। এতে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কমে যায়, আবার সুবিধাও বাড়ে।