নিউজ পোল ব্যুরো: বেলুড় মঠে (Belur Math) দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2025) অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল কুমারী পুজো (Kumari Puja)। এই বিশেষ পূজা শুধু একটি ধর্মীয় রীতি নয়, বরং মাতৃভাব (Motherhood Spirit) উপলব্ধির এক অনন্য সাধনা। শ্রী রামকৃষ্ণ (Ramakrishna) নিজে বলেছিলেন, মাতৃভাবই সর্বাধিক শুদ্ধ ভাবনা। কুমারীর মধ্যে দেবীর প্রতিচ্ছবি উপলব্ধি করা এবং তাকে জননী রূপে পূজা করা সেই শুদ্ধসত্ত্ব ভক্তির প্রকাশ। তাঁর এই ভাবধারাকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda)। তিনি বিশ্বাস করতেন, এই ভাব সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক। সেই পরম্পরা আজও অটুট রয়েছে।
১৯৯০ সালে বেলুড় মঠে প্রথম দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। সেই সময় মা সারদা দেবী (Sarada Devi) স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন। তখন নয়জন কুমারীকে পূজা করা হয়েছিল, এবং তাদের মধ্যে একজনকে স্বামী বিবেকানন্দ নিজ হাতে পূজা করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার পর থেকেই প্রতি বছর অষ্টমীর (Ashtami) সকালে এই পূজা আয়োজন করা হচ্ছে। শাস্ত্র মতে, ১ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে কুমারীরা নেতিবাচক শক্তির ঊর্ধ্বে থাকে। তাদের মধ্যেই মাতৃভাব ও দৈবীশক্তির (Divine Power) প্রকাশ ঘটে। তাই এই বয়সের কন্যাদের দেবী রূপে পূজা করা হয়।
আরও পড়ুন: Makeup Tips :প্যান্ডেল হপিংয়ে ভিজে গেলেও নষ্ট হবে না সাজ, জেনে নিন টেকসই মেকআপ টিপস
এ বছরও অষ্টমীর সকালে বেলুড় মঠের দুর্গাপুজোয় সাড়ম্বরে কুমারী পুজো অনুষ্ঠিত হয়। ভোরবেলা মঙ্গল আরতি দিয়ে শুরু হয় পূজার আচার। এরপর মহারাজের উপস্থিতিতে কুমারী পূজার আয়োজন হয়।

হাজার হাজার দর্শনার্থী (Devotees) ভোর থেকে মঠে ভিড় জমান এই বিরল আচার প্রত্যক্ষ করার জন্য। মন্দিরের পাশেই অস্থায়ী মণ্ডপে পূজার ব্যবস্থা করা হয়। দর্শনার্থীদের বসার জন্য আলাদা আসনও রাখা হয়। যাঁরা সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি, তাঁদের জন্য অনুষ্ঠানের সম্প্রচার করা হয়েছিল চাইল্ড স্ক্রিনে (Live Screening)। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও (Social Media) অনুষ্ঠান লাইভ দেখানো হয়, যাতে দেশ-বিদেশের ভক্তরা এই মহোৎসবে সামিল হতে পারেন। কুমারী পূজার (Kumari Puja Tradition) মাধ্যমে ভক্তরা উপলব্ধি করেন—প্রতিটি নারীর মধ্যেই বিরাজ করছেন বিশ্বজননী। সেই মাতৃভাবই রামকৃষ্ণ থেকে বিবেকানন্দ Left আজও বেলুড় মঠে এক শাশ্বত সাধনা হিসেবে বহমান।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
