নিউজ পোল ব্যুরো:কর্ণাটকের চিত্তাপুরে এই রবিবার আরএসএসের (RSS Chittapur procession) শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে, যা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ এই কেন্দ্রই কংগ্রেস সভাপতি প্রিয়াঙ্কা খাড়গের নিজস্ব এলাকা।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/10/19/suvendu-adhikari-tmc-protest-raidighi/
প্রশাসন মিছিলের অনুমতি দেয়নি। কর্ণাটক সরকার জানিয়েছে, “আরএসএস মিছিল করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।” সেই সঙ্গে আরও একাধিক সংগঠনের মিছিলের অনুমতি ওই এলাকায় বাতিল করা হয়েছে।
শেষে আরএসএস (RSS Chittapur procession) নেতা অশোক পাটিল হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর যুক্তি, প্রশাসনের উদ্বেগের সমস্ত বিষয় নিয়ে তারা ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নিয়েছে এবং রাজনৈতিক কারণে মিছিলের অনুমতি না দেওয়া হচ্ছে। আদালত এই যুক্তি শোনার পর আগামী ২ নভেম্বর প্রিয়াঙ্কা খাড়গের কেন্দ্রে মিছিলের অনুমতি দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে সংঘের নৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
কর্ণাটকে সম্প্রতি আরএসএস নিষিদ্ধ করার দাবি নিয়ে বিতর্ক চলছিল। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের এ দাবি জানিয়েছিলেন। যদিও পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি, তবে সরকার সংঘের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রচলিতভাবে আরএসএসের শাখাগুলি সরকারি স্কুল-কলেজে চলে। স্বয়ংসেবকরা শরীরচর্চা বা অন্যান্য কর্মসূচি পরিচালনা করেন সরকারি সম্পত্তিতে। কংগ্রেস সরকার দাবি করছে, সরকারি সম্পত্তিতে কোনও রাজনৈতিক কার্যক্রম চলতে দেওয়া যাবে না।
রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, প্রিয়াঙ্কা খাড়গের কেন্দ্রে এই শোভাযাত্রা আরএসএসের জন্য একটি শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর সংঘ নিজেদের কার্যক্রমকে নৈতিক ও আইনি সমর্থন হিসেবে উপস্থাপন করতে পারছে।
সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক সমালোচকরা মনে করছেন, এই ঘটনা কর্ণাটকের রাজনৈতিক আবহকে উত্তপ্ত করতে পারে, বিশেষ করে ভোটের আগে সংঘ এবং কংগ্রেসের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
কর্ণাটক সরকার এখনো দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে, সরকারি সম্পত্তিতে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। তবে আদালতের অনুমতি এবং সংঘের কার্যক্রমকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্ক চলতেই থাকবে।
রাজ্য রাজনীতিতে এই মিছিলকে একটি মাইলফলক ঘটনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে, কারণ এটি কেন্দ্রে প্রিয়াঙ্ক খাড়গের রাজনৈতিক প্রভাব এবং আরএসএসের কার্যক্রমের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের প্রতিফলন।
এবারের মিছিল শেষ হলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংঘ এবং কংগ্রেসের মধ্যে ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
