নিউজ পোল ব্যুরো:আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার সাথে সাথেই ভবানীপুরকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা চরম আকার ধারণ করেছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) তোলা ‘রাষ্ট্রীয় নজরদারি’র গুরুতর অভিযোগ এবং পাল্টা তৃণমূল নেত্রীর তোপ— দুই মেরুর সংঘাতে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, ভবানীপুরে তাঁর ঘরোয়া প্রচার কর্মসূচিতে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রশাসন। তাঁর দাবি, সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করে তাঁর সাথে দেখা করা সাধারণ ভোটারদের নাম-পরিচয় ও ঠিকানা নথিভুক্ত করা হচ্ছে। এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি একে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নির্বাচকদের ভীতি প্রদর্শন’ বলে অভিহিত করেছেন। শুভেন্দুর মতে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে এটি এক বিরাট অন্তরায়। এই মর্মে তিনি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করেছেন।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/04/05/west-bengal-ceo-nandigram-visit-voter-security-2026/
উল্লেখ্য, গত বুধবার ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সমর্থনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে আয়োজিত রোড শো-কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। মিছিল কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের নিকটবর্তী এলাকা অতিক্রম করার সময় তৃণমূল-বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার লালবাজারের শীর্ষ নেতৃত্বকে নজিরবিহীন ভাষায় ভর্ৎসনা করেছেন। আইপিএস হয়েও কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা গেল না, সেই প্রশ্ন তুলে প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে বিঁধেছেন তিনি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ডিসি ২ (দক্ষিণ) সিদ্ধার্থ দত্ত এবং ডিসি ২ (রিজার্ভ ফোর্স) মানস রায়কে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে লালবাজার।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
অন্যদিকে, এই ঘটনাপ্রবাহে বিজেপি-কেই পাল্টা কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, মনোনয়ন জমা দেওয়ার অছিলায় বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে এলাকায় পরিকল্পিতভাবে অশান্তি পাকিয়েছে গেরুয়া শিবির। অমিত শাহের উপস্থিতিতে হওয়া ওই গণ্ডগোলকে বিজেপি-র একটি ‘পরিকল্পিত হামলা’ বলে দাবি করে তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট জানান যে, শান্ত ভবানীপুরকে উত্তপ্ত করতেই বিজেপি এই ধরনের কৌশল গ্রহণ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরের এই লড়াই কেবল একটি আসনের জয়-পরাজয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন একদিকে ‘প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা’ এবং অন্যদিকে ‘বহিরাগত বনাম ভূমিপুত্র’ তর্কের এক বৃহত্তর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যে আগামী দিনগুলোতে এই তরজা আরও কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
