নিউজ পোল ব্যুরো:আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে যে জনপদটি ক্ষমতার মহাকাব্যিক লড়াইয়ের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই নন্দীগ্রামের বুথে বুথে রবিবার এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক তৎপরতা প্রত্যক্ষ করল রাজ্যবাসী। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের ফাইলবন্দি পরিসংখ্যান কিংবা নিছক প্রশাসনিক রোয়াবের গণ্ডি পেরিয়ে গণতন্ত্রের ‘গ্রাউন্ড জিরো’য় অবতীর্ণ হলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal)।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/04/05/pm-modi-cooch-behar-rally-west-bengal-election-2026-campaign/
প্রাক-নির্বাচনী আবহে যখন স্পর্শকাতর বুথগুলিতে ভয়ের চোরাস্রোত বইছে, ঠিক তখন সাধারণ মানুষের দুয়ারে পৌঁছে সিইও-র সরাসরি প্রশ্ন— “ভোটের দিন বা পরে আপনাদের কি কেউ ভয় দেখায়?” কমিশনের এই অতি-সক্রিয় ভঙ্গি রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে গভীর তাৎপর্য বহন করছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠকের নির্যাস হাতে নিয়ে রবিবার সাতসকালেই নন্দীগ্রামের অলিগলিতে হানা দেন মনোজ আগরওয়াল। কালিয়াচকের সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলা যেখানে বিচারবিভাগীয় মর্যাদাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, সেখানে সিইও-র এই ঝটিকা সফর আদতে ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিক মনোবল বৃদ্ধির এক সুপরিকল্পিত প্রয়াস। এদিন তিনি স্পষ্ট জানান যে, সাধারণ মানুষের মনে যেন কোনও প্রকার ভয়-ভীতি না থাকে তা নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রাথমিক দায়বদ্ধতা। যে সমস্ত জনপদে ইতিপূর্বে সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে কিংবা ভবিষ্যতে অশান্তির আশঙ্কা প্রবল, সিইও স্বয়ং সেখানে পৌঁছে সরাসরি জনসংযোগ স্থাপনের অঙ্গীকার করেছেন।
ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাম বাদ যাওয়া কেন্দ্রিক যে উত্তপ্ত বাদানুবাদ গত কয়েকদিন ধরে প্রশাসনিক স্তরে চলছিল, এদিন পরিসংখ্যানের মাধ্যমে তার যবনিকা টানার চেষ্টা করেন তিনি। সিইও (CEO Manoj Agarwal) জানান, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রায় ৬০ লক্ষ বিচারাধীন আবেদনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫৫ লক্ষেরও বেশির নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে এবং জনসমক্ষে আনা হয়েছে ১১টি অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। ভোটারদের আইনি জটিলতা নিরসনে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় শুরু করার বিষয়েও তিনি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এদিনের অন্য এক নাটকীয় মোড় ছিল ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনিশ্চয়তা নিরসন। ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় যে আইনি জট তৈরি হয়েছিল, এসআইআর ট্রাইব্যুনালের হস্তক্ষেপে রবিবার তাতে ইতি পড়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রার্থীর পিতার তথ্যে বিচ্যুতি থাকলেও প্রার্থীর নিজস্ব ভোটাধিকার বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে কোনও আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই। কলকাতা হাইকোর্টের সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে রবিবার রাত ৮টার মধ্যেই তাঁর নাম অতিরিক্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ কার্যকর করার পথে হেঁটেছে কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশনের এই ‘মেঠো সফর’ শেষ পর্যন্ত বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কতটা ইতিবাচক ছাপ ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে খোদ সর্বোচ্চ নির্বাচনী আধিকারিককে গ্রামের ধুলোমাখা পথে প্রত্যক্ষ করে নন্দীগ্রামের আমজনতার মনে যে কিঞ্চিৎ আশার সঞ্চার হয়েছে, তা অনস্বীকার্য।
